ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট
জান-ই-আলম, চট্টগ্রাম থেকে
ব্যাটিং বান্ধব হিসেবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে একটা সুনাম রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বোচ্চ দুটি স্কোরই (২৩৯, ২৩৭) এই মাঠে হয়েছে। সাগরিকায় রানের ছন্দ তাই স্বাভাবিক ঘটনা। আর খেলাটা যখন টি-২০, তখন রানের জোয়ারেই দর্শকরা বিনোদিত হবেন বেশি।
আজ ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচেও বড়ো স্কোর দেখা যেতে পারে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বিপিএলের মতোই রানের উইকেটই থাকছে আজ।
তুলনামূলক ব্যাটিং নির্ভর উইকেটে ফাইনালের টিকিটের সন্ধানে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। আজ সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে সাকিব আল হাসানের দল। সাগরিকায় ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।
দুই ম্যাচে একটি জয়, একটি হার বাংলাদেশের। আফগানিস্তান জিতেছে দুটি ম্যাচই। এখনো জয়হীন জিম্বাবুয়েকে আজ হারাতে পারলেই ফাইনাল নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতরাও মুখিয়ে আছেন, আজকের সুযোগটি কাজে লাগাতে। ফিরতি ম্যাচে আফগানদের সামনে পড়ার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করতে পারাটা বড়ো স্বস্তি হবে সাকিবদের জন্য।
যদিও গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বলেছেন, আজই ফাইনাল নিশ্চিত করার ভাবনা নয়, বরং ম্যাচ জেতার চিরন্তন লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চায় বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের মাটিতে আজই প্রথমবার ক্রিকেটের খুদে সংস্করণে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। যেখানে জয়ের হাসিটাই বাংলাদেশের জন্য প্রার্থিত। গতকাল মোসাদ্দেক বলেছেন, ‘যখন ম্যাচ খেলি প্রত্যেকটা ম্যাচ জেতার জন্য অবশ্যই খেলি। আসলে আমাদের সামনে আরো তিনটা ম্যাচ আছে, যদি ফাইনাল খেলি। ওভাবে চিন্তা না করে আমার মনে হয় আমরা পরের ম্যাচটা জেতার জন্যই খেলব।’
ঢাকায় জিম্বাবুয়েকে হারানোর পর আফগানদের কাছে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ। রশিদ খানের দলের কাছে ২৫ রানে হেরে যায় সাকিবের দল। ছন্দ ফিরে পেতে আজকের ম্যাচে জয়টা গুরুত্বপূর্ণ টাইগারদের জন্য। মোসাদ্দেক বলেছেন, ‘আমাদের একটা মোমেন্টাম জরুরি, একটা ম্যাচ জেতা আসলে দরকার। আমরা প্রথম ম্যাচ জিতেছি এবং একটা ম্যাচ হেরে গেছি। পরবর্তী ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জেতার জন্যই খেলব। শতভাগ আক্রমণাত্মক ক্রিকেটটাই খেলব।’
টানা ব্যর্থতার কারণে দলের আত্মবিশ্বাস তলানীতে। মোসাদ্দেক বলছেন, ঘাটতি কাটাতে আরো দেখে-শুনে খেলতে হবে ব্যাটসম্যানদের। তরুণ এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘আসলে দেখেন স্বাভাবিকভাবে যখন রান না করে তখন ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস দুর্বল থাকে সেটাই স্বাভাবিক। আসলে আমরা ম্যাচটা হারছি দেখেন হয়তো ২০ রানের মতো ব্যবধানে। আসলে আত্মবিশ্বাস ডাউন থাকার পরও যদি আমরা ২০ রানে হারি, আমরা যদি আরেকটু দেখে-শুনে খেলতে পারি আমাদের জন্য ভালো।’
টেস্টের পর টি-২০ তেও আফগানিস্তানের সঙ্গে পেরে উঠছে না বাংলাদেশ দল। ব্যর্থতার কারণে সমালোচনার বিদ্ধ হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। ভালো অবস্থানে নেই জাতীয় দলের নির্বাচকরাও। সিরিজের মাঝে দলে অনেক পরিবর্তন করে সমালোচিত হয়েছেন মিনহাজুল-হাবিবুলরা।
কঠিন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে এড়িয়ে চলেন বলেই জানালেন মোসাদ্দেক। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘যখন আমরা ভাল খেলি অন্যরকম একটা পরিবেশ থাকে। যখন হারি বা খারাপ খেলতে থাকি তখন সমালোচনা থাকে। চেষ্টা করি যতটা এড়ানো যায়, নিজের ওপর ফোকাস করা যায় এবং তখন ক্রিকেট নিয়েই চিন্তা করি, কীভাবে কাটিয়ে উঠা যায়, খারাপ সময়টা থেকে কীভাবে বের হওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়া, ফেসবুকে এগুলোতে নজর কম দেয়ার চেষ্টা করি।’