এডিআরে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঋণ দেওয়ার সুযোগ বাড়ল ব্যাংকের

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাড়ানো হলো ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর)। এখন থেকে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮৫ টাকা এবং ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য সর্বোচ্চ ৯০ টাকা ঋণ দিতে পারবে। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। ঋণ প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) কমিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এডিআর কমিয়ে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য ৮৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য ৮৯ শতাংশ করা হয়। আগে যা ৮৫ ও ৯০ শতাংশ ছিল। ব্যাংকগুলোর এডিআর নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনতে প্রথমে গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এরপর আরেকটি সার্কুলারের মাধ্যমে সময় বাড়িয়ে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়। তবে তারল্যসংকটের কথা বলে বিভিন্ন দাবিতে সরব হয় ব্যাংকগুলো। পরবর্তীতে সময় আরো বাড়িয়ে ৩০ মার্চ  পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এই সময়ের মধ্যেও সমন্বয় করতে না পারায় ঋণ-আমানত অনুপাত নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনার কার্যক্রম ৩০ সেপ্টেম্বরের (২০১৯) মধ্যে শেষ করতে বলা হয়।

বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়, প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর দ্বিসাপ্তাহিক গড় ভিত্তিতে রক্ষিতব্য সিআরআর এবং দৈনিক ভিত্তিতে রক্ষিতব্য এসএলআর বাদে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ইসলামি শরীয়াহ্ ভিত্তিক ব্যাংক ও প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য তা দাঁড়ায় ৮৯ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতের মূলধন ভিত্তি, তারল্য পরিস্থিতি, আন্তঃব্যাংক নির্ভরশীলতা এবং সর্বোপরি ব্যাসেল-৩ অনুসারে এলসিআর ও এনএসএফআর-এর নির্ধারিত মাত্রা সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রচলিত ধারার ব্যাংকের জন্য অগ্রিম-আমানত হার (এডিআর) সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ (৮১ দশমিক ৫ শতাংশ + সার্বিক আর্থিক সূচকসমূহ বিবেচনায় ব্যাংকের পর্ষদের সিদ্ধান্তক্রমে অতিরিক্ত ৩.৫ শতাংশ) এবং ইসলামি শরিয়াহ্ ভিত্তিক ব্যাংক এবং প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য বিনিয়োগ-আমানত হার (এডিআর) সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ (৮৯ শতাংশ + সার্বিক আর্থিক সূচকসমূহ বিবেচনায় ব্যাংকের পর্ষদের সিদ্ধান্তক্রমে অতিরিক্ত ১ শতাংশ) নির্ধারণ করা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে সীমার ওপরে ছিল ১৯ ব্যাংকের এডিআর।