একদিন এক লোক এক নদীর ধারে বসেছিল। সে লক্ষ করল নদীর পানিতে কিছু একটা ভেসে যাচ্ছে। বস্তুটি ভেসে ভেসে তীরের কাছে আসতেই মনে হলো ওটি একটি চমত্কার কম্বল।
লোকটি মনে মনে ভাবল, কম্বলটি সংগ্রহ করতে পারলে সেটি তাকে আসন্ন শীত মৌসুমে দারুণ উষ্ণতা দেবে। পরক্ষণেই নদীর এই চমত্কার উপহারটি বাগিয়ে নেয়ার জন্যে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ল সে।
কম্বলটির নাগাল পাওয়ামাত্রই সেটি গোলাকৃতি ধারণ করে তাকে দৃঢ় আলিঙ্গনে জাপটে ধরল। ততক্ষণে সে টের পেয়ে গেছে ওটা আসলে একটি জীবিত ভালুক।
এভাবে কম্বলের তুলতুলে লোমের কোমল পরশের পরিবর্তে লোকটি একটি ভয়ংকর পশুর হাতে ধরা পড়ে গেল। ভয়ার্ত লোকটি ভালুকের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্যে হাত-পা ছুড়তে ছুড়তে বেদম কসরত করতে লাগল।
জন্তুটি একেবারেই অনড়। লোকটি শরীরের সবটুকু শক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগল। কিন্তু বিকট জানোয়ারটির সঙ্গে সে কিছুতেই পেরে উঠল না। সে কম্বল বলে ভুল করা ভালুকটির আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে অসহায়ভাবে নদীর ভাটিতে ভেসে যেতে লাগল।
নদীর ধারের পথচারীরা তার বিপজ্জনক অবস্থা দেখল। তারা চেঁচিয়ে বলতে লাগল, ‘কম্বল ছেড়ে উঠে এসো। তুমি স্রোতের তোড়ে আটকা পড়ে যাচ্ছ। তুমি যে সহসাই ডুবে মরবে।’
লোকটি গড়গড় করতে করতে অনুচ্চস্বরে বলে উঠল, ‘আমি যে কম্বল থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু কম্বলটি কিছুতেই আমাকে ছাড়ছে না।’
পুনঃকথন :আহমেদ জসিম