আঙ্গারিয়া-বুড়িরহাট খাল দখল-দূষণে মৃতপ্রায়

থেমে আছে খননকাজ

অনল কুমার দে, শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুর সদর উপজেলার কীর্তিনাশা নদীর আঙ্গারিয়া-বুড়িরহাট খালের পাড় দখল ছাড়াও খালে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে সেটির অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না করতে পারায় দুই মাস ধরে বন্ধ আছে খনন কাজও।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঐ খালের আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে দখলদারদের দাপট। অবৈধ দখলের কারণে খালের পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১৭ সালে ঐ খালটি খনন কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঐ বছরই ২৬ ডিসেম্বর সালেহ আহম্মেদ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় পাউবো। খালটি খননে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৭ সালের অক্টোবর হতে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বুড়িরহাট হতে আমিন বাজার পর্যন্ত ছয় দশমিক ২ কিলোমিটার অংশের কিছু খনন করেছে। ঐ খনন বাবদ প্রতিষ্ঠানটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। অবৈধ স্থাপনা সরাতে না পেরে ২০১৮ সালের জুন থেকে খনন কাজ বন্ধ রেখেছে পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সদর উপজেলার রুদ্রকরের বালার বাজার এলাকায় একটি ইটভাটা রয়েছে। গত বছর খাল খননের সময় ঐ স্থানের সড়কটি ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু ইটভাটার দখলে থাকা খালের অন্যান্য অংশ খনন করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে ইটভাটার মালিক গোলাম মোস্তফা ব্যাপারী বলেন, খাল খননের সময় আমাদের অফিস ঘর ও রাস্তা ভেঙে দিয়েছে। খালটি মহাসড়কের পাশে। তাই খালের জায়গায় সড়ক নির্মাণ হয়েছে। আর ব্যক্তিগত জায়গায় এখন খাল খনন হচ্ছে। এ কারণে কিছুটা জটিলতা রয়েছে।

আঙ্গারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মাহাবুবুর রহমান বলেন, খালের পাড়ে আমার বিল্ডিং। তার পাশে ১৫ ফুট জায়গার মধ্যে একটি টিনের স্থাপনা ছিল। গত বছর ম্যাজিস্ট্রেট তা ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু আমার বিল্ডিংয়ের কোনো অংশ খালের জায়গায় পড়েনি।

আঙ্গারিয়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, কেউ যদি অবৈধভাবে খাল দখল করেন তা হলে প্রশাসন যে পদক্ষেপ নেবেন আমরা তার সঙ্গে থাকব।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, অবৈধ দখলের কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। শিগগির উচ্ছেদ করে খনন কাজ শুরু করা হবে।

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, আঙ্গারিয়া-বুড়িরহাট খালসহ জেলার বেশকিছু খাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। ঐ কমিটি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে খাল দখল মুক্ত করবে।