যশোর অফিস
যশোর শহরের সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের ফুটপাত দখল করে হচ্ছে গাড়ি পার্কিং। রাখা হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবহার সামগ্রী। এতে চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি ঘটছে ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর-খুলনা মহাসড়কের বকচর, মণিহার, শিক্ষাবোর্ড, খাজুরা স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কের ফুটপাতে রাখা হচ্ছে সারি সারি গাড়ি। কোথাও রাখা হয়েছে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। শুধু এই মহাসড়কেই নয়, যশোর-মাগুরা, যশোর-বেনাপোল, যশোর-সাতক্ষীরা, যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কসহ ১৭টি রুটের চিত্রই এমন। ফলে সড়কগুলো ছোটো হয়ে একদিকে যেমন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, শহরের ফুটপাত দখল করে রাখা হচ্ছে ব্যবসা বা নির্মাণসামগ্রী। অনেক দোকানের সামনে মালামাল রাখার কারণেও ফুটপাত দখল হয়ে আছে। ফলে এসব স্থান দিয়ে পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
খাজুরা স্ট্যান্ডের ট্রাকচালক আব্দুস সালাম বলেন, অন্যান্য জেলায় ট্রাক স্ট্যান্ড থাকলেও যশোরে নেই। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের রাস্তার ওপর গাড়ি রাখতে হয়। কর্তৃপক্ষ গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করে দিলে রাস্তায় আর রাখব না। তিনি বলেন, রাস্তা দখলের কারণে আমাদেরও গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। আমরা দাবি করছি, গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কের ফুটপাত যেন দখলমুক্ত থাকে।
জেলা ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা প্রতিদিনই অভিযান চালিয়ে মামলা দিচ্ছি।
যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেন, ফুটপাত দখলের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা কমিটির আগামী সভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন হলে অভিযান চালানো হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শুধু সড়ক বিভাগের একার পক্ষে এ দখল অপসারণ সম্ভব নয়। এজন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অনেক স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। একইসঙ্গে গণসচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, যেসব স্থানে ফুটপাত দখল হয়ে আছে, শিগগিরই সেসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।