কক্সবাজার পৌর এলাকার বেশির ভাগ সড়ক বেহাল

যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

 সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার পৌর শহরের প্রধান সড়কসহ প্রায় অর্ধশত উপ-সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। গর্তে ভরা এসব সড়কে যানবাহন চলছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। এতে প্রায়ই যাত্রীসহ দুর্ঘটনায় পড়ছে ইজিবাইক (টমটম), রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা। সড়কে চলতে গিযে নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের মোটর, বডিসহ নানা যন্ত্রাংশ। এসব কারণে রিকশা, টমটম ও অন্য যানবাহন চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে অতিরিক্ত অর্থ। এভাবে সড়কে চলতে গিয়ে কক্সবাজার পৌরবাসী মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসটার্মিনাল হয়ে পৌর ভবনের থানা রাস্তার মাথা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকার অধিকাংশ স্থানে ছোটো-বড়ো অসংখ্য গর্ত। আলির জাঁহাল মসজিদ এলাকায় কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিনের বাসার সামনে, রুমালিয়ারছরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন এলাকা, কালুর দোকান বাজার, বার্মিজ মার্কেট এলাকায় বেশি গর্ত রয়েছে। প্রধান সড়ক ছাড়াও পিটি স্কুল, দক্ষিণ রুপমালিয়ারছরা, উত্তর তারাবনিয়ারছরা, খুরুশকুল রাস্তার মাথা সড়ক, কালুরদোকান-পাহাড়তলী সড়ক, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, হাসপাতাল সড়ক, সরকারি বালিকা ও বালক উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, চাউলবাজার সড়ক, বড়বাজার মসজিদ সড়ক, আইবিপি রোড, বিকে পাল সড়ক, খানেকা মসজিদ রোড, পানবাজার সড়কসহ আরো কয়েক ডজন উপ-সড়কের অবস্থা চরম নাজুক। হিলডাউন সার্কিট হাউসের একটু পশ্চিমে বড়ো আকারের গর্ত রয়েছে। এতে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

ইজিবাইক (টমটম) চালক আবদুল হাকিম, ইয়াছিন মুহাম্মদ, রহমত আলীসহ ভুক্তভোগীরা বলেন, পৌরসভার সড়কগুলো গর্তে ভরে চলাচল অযোগ্য হয়েছে। গর্ত ও বিভিন্ন স্থানে মাটি জমে থাকায় উঁচু-নিচু স্থানগুলোতে অনেকটা ঢেউয়ের তালে চলতে হয়। এতে টমটমের বিভিন্ন জয়েন্ট ও যন্ত্রাংশ খুলে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দুই ট্রিপ চালিয়ে মেকানিকের দ্বারস্থ হতে হয় টমটমচালক বা মালিকদের। গর্তে শতাধিক টমটমের মোটর নষ্ট হয়েছে। একেকটি মোটরের দাম ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এতে ব্যয় বেড়ে গেছে।

কক্সবাজার বৈদ্যঘোনা এলাকার ব্যবসায়ী ফয়সাল খান বলেন, কক্সবাজার প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও শহরের খানাখন্দে প্রধান সড়কসহ অর্ধশত উপ-সড়কগুলো দেখলে তা মনে হয় না। সড়কে তিন চাকার গাড়ি বা অন্যযানে দূরের কথা মোটরসাইকেলে চড়াও কষ্টসাধ্য।

জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান সড়কটি সড়ক ও জনপথের (সওজ) ছিল। কিন্তু প্রশস্তকরণসহ উন্নয়নের আওতায় আনতে বিগত কয়েক বছর ধরে চিঠি চালাচালির পর ২০১৮ সাল হতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) সড়কটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। কিন্তু কউকের দেওয়া প্রকল্প চূড়ান্ত না হওয়ায় সড়কে হাত দিতে পারেনি সংস্থাটি। ইত্যবসরে সওজ বিভাগও আর রক্ষণাবেক্ষণ করেনি সড়কটির। ফলে কয়েক বছর ধরে সড়কটি অভিভাবকহীন হয়ে সংস্কারহীন থেকে যায়। গত বর্ষায় সড়কে বিভিন্ন রকমের ভাঙন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পৌরসভার ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের কালুরদোকান এলাকার বাসিন্দা আজিজ মওলা চৌধুরী বলেন, প্রধান সড়কের দুর্ভোগ এড়াতে উপ-সড়কে চলতে গিয়ে ভোগান্তি আরো বাড়ে। সড়কের ঝক্কি ঝামেলায় বাচ্চাগুলো বিদ্যালয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও প্রধান ও উপ-সড়কগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রশস্ত। কিন্তু সড়কগুলোর ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশিসংখ্যক ও ওজনের যানবাহন চলাচল করে। ফলে সংস্কার করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সময় পর্যন্ত সড়কগুলো ঠিকঠাক থাকছে না। শহরের ভেতর খানাখন্দে ভরে যাওয়া বেশকিছু উপ-সড়ক সংস্কারে ইতিমধ্যে প্রায় ৮৭ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত থামলেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক অর্ডার সরবরাহ করা হবে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে পৌরসভার প্রধান সড়কটি কউক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। গত দুই মাসে সড়কটির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্নভাবে একাধিকবার সংস্কার করা হয়। যান চলাচলের বাড়তি চাপ ও টানা বৃষ্টিতে আবারও সড়ক জুড়ে মারাত্মক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণে একনেকে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। ঐ প্রকল্পের কার্যাদেশ শিগগিরই পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। সড়কটি যান ও জন চলাচল উপযোগী করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।