থ্রিজি-ফোরজি সেবা বন্ধ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর অভিযোগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও এর আশপাশ এলাকায় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এতে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে উখিয়া ও টেকনাফবাসী। নেট ব্যবহার করে গত ৫ আগস্ট দোয়া মাহফিলের নামে বিশাল মহাসমাবেশ করে সর্বত্র তাক লাগিয়ে দেয় আশ্রিত রোহিঙ্গারা। এরপর থেকে নড়েচড়ে বসে সরকার।
সিদ্ধান্ত হয়, কোনো অবস্থাতেই যেন ক্যাম্প এলাকায় থ্রিজি-ফোরজি সুবিধা না পায় রোহিঙ্গারা। সরকারের এ ঘোষণাকে অপব্যবহার করছে মোবাইল কোম্পানিগুলো। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক টাওয়ার অপসারণ না করে পুরো উখিয়া-টেকনাফ এলাকা জুড়ে থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে উখিয়া ও টেকনাফবাসীর বিড়ম্বনা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ ইন্টারনেটনির্ভর লোকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নানা দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। আর পুরো এলাকা জুড়ে থ্রিজি-ফোরজি বন্ধ রাখায় বাড়ছে অসন্তোষও; কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও থেমে থাকেনি রোহিঙ্গারা। থ্রিজি-ফোরজি সুবিধা সংকীর্ণ করায় মিয়ানমারের এমপিটি কোম্পানির সিম দিয়ে ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করছে রোহিঙ্গারা।
উখিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সরোয়ার আলম শাহীন বলেন, রোহিঙ্গাদের অপরাধ দমনে সরকারের সিদ্ধান্ত মতে বিটিআরসি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। গত তিন দিন আগে নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু করে থ্রিজি-ফোরজি সেবা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রা তথ্য আদানপ্রদানে পড়েছে বেকায়দায়।
নেটওয়ার্ক কোম্পানি রবি আজিয়াটার মার্কেট কমিউনিকেশনের জিএম আশিকুর রহমান বলেন, বিটিআরসির নির্দেশনা অনুসরণ করে উখিয়া-টেকনাফে থ্রিজি-ফোরজিসেবা বন্ধ রয়েছে। গ্রাহকদের মধ্যে দুর্ভোগ ও উত্তেজনা থাকলেও কিছু করার নেই।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিটিআরসি থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থ্রিজি-ফোরজিসেবা বন্ধ রাখতে; কিন্তু নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলো বলছে, উখিয়া-টেকনাফ পুরো এলাকায় নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখতে বলেছে বিটিআরসি। তবে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা তিনি এখনো পাননি।