মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ভোটার করা এবং জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের ল্যাপটপ গায়েব করার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের এক কর্মচারীসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। একইসঙ্গে নির্বাচন কার্যালয়ের গায়েব হওয়া একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার ভোরে গ্রেফতার তিন জনসহ মোট পাঁচ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা।
গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হচ্ছেন—ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. জয়নাল আবেদীন, গাড়িচালক বিজয় দাস ও তার বোন সীমা দাস ওরফে সুমাইয়া। বাকি দুই আসামি হলেন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির প্রজেক্ট থেকে চাকরিচ্যুত সাগর ও সত্য সুন্দর দে। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও নির্বাচন কমিশন আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আসামি জয়নাল আবেদীনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নির্বাচন কার্যালয়ের খোয়া যাওয়া ল্যাপটপটি অপর আসামি সীমা দাস ওরফে সুমাইয়ার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। সীমা চট্টগ্রাম সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আয়া পদে কর্মরত রয়েছেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়াকে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, এনআইডি তৈরির প্রজেক্ট থেকে চাকরিচ্যুত সাগর এই জালিয়াত চক্রের মাস্টারমাইন্ড। এ চক্রের আরেক সদস্য পৃষ্ঠা সত্য সুন্দর দে। এ দুই জনকে পাওয়া গেলে রোহিঙ্গাদের ভোটার করার ব্যাপারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। ওসি আরো বলেন, এ চক্রের নারী সদস্য সুমাইয়া ওরফে সীমা দাস ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। তার কাছ থেকেই নির্বাচন কমিশনের লাইসেন্স করা ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়েছে। সীমার দাবি, তার ভাই বিজয় দাস তাকে কম্পিউটারটি দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ইনপুট করার কাজে ব্যবহূত একটি ল্যাপটপ ২০১৫ সালে (১৫৫৭-৪৩৯১) চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে খোয়া যায়। ঐ ল্যাপটপ দিয়েই রোহিঙ্গাদের এনআইডি কার্ড তৈরি করা হয়েছে বলে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে বের হয়ে এসেছে।