অব্যাহত নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিরোধ ও প্রতিকারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি গণমানুষের জীবনে বড়ো ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের এ সময় নারী ও শিশুর প্রতি বৃদ্ধি পাওয়া সহিংসতার চিত্র কোনোভাবেই কাম্য নয়।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত ১ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ঐক্যবদ্ধভাবে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিরোধ করি এবং ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’—এই স্ল্লোগান দুটিকে সামনে রেখে ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি এই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে।
পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারী-শিশু নির্যাতনের এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে সমগ্র জাতি এই সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা বিবেচনা করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে।
পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, উন্নয়নের বাহক হিসেবে নিজেকে এগিয়ে নিতে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে বিদ্যমান পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং প্রচলিত জেন্ডার বৈষম্যমূলক রীতিনীতির সঙ্গে একজন নারী প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে শিশুকাল থেকেই। সংগ্রামে নারী আজ অনেকাংশে সফল হলেও তার চলার পথ এখনো মসৃণ নয়। শিশু থেকে নারী প্রত্যেকেই পরিবারে, চলার পথে, কর্মক্ষেত্রে, গণপরিবহনে, শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি রেখা চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা বেগম, সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, অর্থ সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম প্রমুখ।