সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এই আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি দু’দলেরই প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেবেন। অন্য দিকে, সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসন নিয়ে জামায়াত-বিএনপিতে অস্থিরতা চলছে।
মহাজোটের উন্মুক্ত আসনগুলো হচ্ছে- সিলেট-৫, হবিগঞ্জ-১ এবং হবিগঞ্জ-৩। এরমধ্যে সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন হাফিজ আহমদ মজুমদার। এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করবেন বর্তমান এমপি সেলিম উদ্দিন। এ ছাড়া, হবিগঞ্জ-১ এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আতিকুর রহমান আতিক, আর আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করবেন হবিগঞ্জ-১ আসনে শাহনেওয়াজ গাজী (মিলাদ গাজী) এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনে আবু জাহির।
সূত্র জানায়, সিলেট-৫ আসনে নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাফিজ মজুমদার দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগোযোগ করলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাকে এ আসনে নির্বাচন করার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেন। হবিগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের শাহনেওয়াজ গাজীর পক্ষে তার বোন সিলেট জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এ জেড রওশন জেবিন রুবা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করলে নেতৃবৃন্দ গাজীকে এ আসনে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন।
এ দিকে, সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসন দুটি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রথম দিকে এ দুটি আসন বিএনপি ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও গত শনিবার তা থেকে পিছিয়ে আসে। সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রনেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী ও সিলেট-৫ আসনে জোটের অন্যতম শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে বিএনপি চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতের প্রদত্ত তালিকা থেকে বাছাই ও আলোচনাসাপেক্ষে ২৫ জন প্রার্থীকে ধানের শীষের মনোনয়নের চিঠি দেন। এর মধ্যে জামায়াতের ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (সিলেট-৫) ও হাবিবুর রহমান (সিলেট-৬) ছিলেন। কিন্ত গত শনিবার তাদেরসহ তিনজনকে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এ বিষয়টি মানতে চাইছে না জামায়াত। তারা আসন দুটিতে নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার শনিবার রাতে জানান, আমরা ২২টি আসনে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি পেয়েছি। শুরুতে ২৫টি আসনে দেওয়া হয়েছিল। এখন তিনটি কমে গেছে। সে ক্ষেত্রে এই তিনটি আসন তো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।