জিডিপির তুলনায় পুঁজিবাজার সেভাবে উন্নত হয়নি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও স্টক এক্সচেঞ্জ বর্তমানে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মার্কেট| এর পরেও মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি), বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তুলনায় এটা খুবই দুঃখজনক যে দেশের পুঁজিবাজার সেভাবে উন্নত হয়নি। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘টেকনিক্যাল সিরিজেস প্রিপেয়ারিং এ সাসটেইনেবল রিপোর্ট’ শীর্ষক কর্মশালায় ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন| এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ইনচার্জ) আবদুল মতিন পাটওয়ারী, জেনারেল ম্যানেজার ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মাদ আসাদুর রহমান, জিআরআই সাউথ এশিয়ার সাসটেইনেবিলিটি এক্সপার্ট পল্লবী আত্রী, জিআরআই সাউথ এশিয়ার ডিএফএটি পোগ্রাম ম্যানেজার রুবিনা সেন| মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই)-এর গাইডলাইনগুলো হলো বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত, বিশ্বস্ত ও ব্যবহারবান্ধব| এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| কারণ একুশ শতাব্দীতে প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি হলো সততা ও বিশ্বাস সৃষ্টি করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোম্পানির ব্র্যান্ডিং, খ্যাতি এবং পণ্যের পার্থক্য কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে বৃদ্ধি করা| জিআরআই প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুনাফার দিক থেকে বিশ্বের ৯৩ শতাংশ বৃহত্তর কোম্পানি তিন-চতুর্থাংশ সাসটেইনেবল রিপোর্ট তৈরিতে জিআরআইয়ের কাঠামো ব্যবহার করে| জিআরআই মান অনুযায়ী ডিএসইর তালিকাভুক্ত  কোম্পানিগুলোকে রিপোর্ট তৈরিতে সহায়তা প্রদান ও পরিবেশ রক্ষা এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স পরিপালন ও স্টেক হোল্ডারদের সম্পর্কের উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজের উন্নতি, খ্যাতি বৃদ্ধি ও বিশ্বাস স্থাপনের জন্য ডিএসই ইতিমধ্যে সাসটেইনেবল রিপোর্টিংয়ের ওপর নির্দেশিকা চালু করেছে এবং সমস্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে এটি অনুসরণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশে কিছু বহুজাতিক কোম্পানি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রিপোর্ট করে। কিন্তু আরো অনেক ভালো কোম্পানি এটি করতে পারে| এই প্রক্রিয়ায় আমাদের পুঁজিবাজার, জিডিপি ও অর্থনীতি সবই আরো উচ্চ স্তরে যেতে পারে। ড. অদিতি হালদার বলেন, বিশ্বব্যাপী ১১০টি দেশ জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডগুলো নিয়ে কাজ করছে এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করলে এ কাজগুলো আরো সহজ হয়ে যায়।