ফরম্যাট বদলালো, দুই দলের অধিনায়ক বদলালো; পোশাকও রঙ্গীন হলো। কিন্তু ফলাফলে কোনো পরিবর্তন এলো না। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইটের নিচে আরও একবার অভ্যস্থ উল্লাসে মাতলো বাংলাদেশ। ৫ উইকেটের ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশ শুরু করলো ওয়ানডে সিরিজ। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ।
আগে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫০ ওভারে ১৯৫ রান করতে পেরেছিলো ৯ উইকেটে। জবাবে খুব দেখে শুনে শুরু করে বাংলাদেশ। চার জন ওপেনার নিয়ে খেলা স্বাগতিক দলের হয়ে ইনিংস শুরু করেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। দু জনে ৩৭ রান করেন ৮ ওভারে। ২৪ বলে ১২ রান করে তামিম ফিরলে জুটি ভাঙে। পরপরই ৪ রান করে ফিরে আসেন তিন নম্বরে নামা ইমরুল কায়েস। এরপর মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস ৪৭ রানের একটা জুটি করেন। লিটন ৫৭ বলে ৫টি চারে সাজানো ৪১ রান করে ফেরেন। এর মধ্যেও ব্যক্তিগত ৫ রানের মাথায় একবার জীবন পেয়েছিলেন লিটন। কেমার রোচের বলে ক্যাচ তুলে দিলেও নো বল হওয়ায় ফিরে আসেন তিনি।
লিটন ফেরার পর আবার ভালো একটা জুটি করেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। দু জনে যোগ করেন ৫৭ রান। সাকিব ২৬ বলে ৪টি চারে সাজানো ৩০ রানের ইনিংস খেলেন। সাকিব ফেরার পর মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে বাকী পথটা নির্বিঘ্নে পাড়ি দিয়েছেন মুশফিক। ম্যাচের একমাত্র ফিফটি করে, ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। অন্য প্রান্তে অপরাজিত থাকা রিয়াদের রান ১৪।
বাংলাদেশ তিন ফাস্ট বোলার নিয়ে খেলেছিলো এই ম্যাচে। কিন্তু দুই প্রান্তে বোলিং আক্রমণ শুরু হলো স্পিন দিয়ে। এর মধ্যে সাকিব আল হাসানই প্রথম আঘাতটা হানলেন। ১০ রান করা কিয়েরন পাওয়েলকে ফেরালেন তিনি। এরপর ওপেনার শাই হোপ এবং অনেকদিন পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফেরা ড্যারেন ব্র্যাভো হুমকি হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। ব্র্যাভোকে ফেরালেন মাশরাফি।
ব্র্যাভোর উইকেটটা অবশ্য তামিম ইকবালের অসাধারণ এক উড়ন্ত ক্যাচের অবদান। এ দিন দারুন ছন্দে বল করলেন ২০০তম ওয়ানডে খেলতে নামা মাশরাফি বিন মুর্তজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ ৪৩ রান করা হোপকেও ফেরালেন তিনি। অন্য দিকে ২৫ রান করা মারলন স্যামুয়েলস রুবেলের একমাত্র শিকার হয়ে ফিরলেন।
এই সফরে টেস্টের চার ইনিংসেই মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়েছেন শিমরন হেটমেয়ার। গতকাল পঞ্চমবারের মতো পুরোনো বন্ধুর হাতে আউট হলেন এই মারকুটে ক্যারিবিয়ান; রান করতে পারলেন মাত্র ৬। এরপর প্রতিপক্ষ অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলকে ফেরালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। এখান থেকেও একটা বেশ দ্রুতগতির জুটি করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রোস্টন চেজ ও কেমু পল ৫১ রানের জুটি করলেন। দু জনকেই ফেরালেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৩২ রান করেন চেজ এবং ২৮ বলে ৩৬ রান করেন পল। শেষ ওভারে আরও একটা উইকেট নেন মুস্তাফিজ।
ফলে মুস্তাফিজ পেলেন ৩৫ রানে ৩ উইকেট। অন্য দিকে ৩০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দিনের সেরা বোলার ছিলেন মাশরাফি।