বিশ্বনাথে প্যারেড পোকার চাষ!

বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা

আমিষ ও প্রোটিনের যোগান দিতে বিলেত থেকে প্যারেড পোকা (সৈনিক পোকা-ব্ল্যাক সোল্ডার ফ্লাই) নিয়ে এসেছেন বিশ্বনাথের যুক্তরাজ্য প্রবাসী খলিলুর রহমান। নিজবাড়ির পাশে এই প্রবাসী গড়ে তুলেছেন পোকার খামার। খামারের নাম দিয়েছেন বায়োসাইকেল কোম্পানি।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী খলিলুর রহমান নিজবাড়ি বিশ্বনাথে কোয়েল পাখি ও লেয়ার মুরগির খামার করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু কোয়েল পাখি ও লেয়ার মুরগির খাদ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় তিনি চিন্তা করেন কিভাবে কম মূল্যে খাবার সংগ্রহ করা যায়। এরপর একটি প্যারেড পোকার খামার করার সিদ্ধান্ত নেন। যাতে কম মূল্যে কোয়েল পাখি ও লেয়ার মুরগির পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ সম্ভব। তাই তিনি যুক্তরাজ্যের একটি ফার্ম থেকে ১৫০ গ্রাম পোকা সংগ্রহ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এরপর বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি খামার করে গত ২৬ জুন থেকে শুরু করেন পোকার চাষ।

খলিলুর রহমান জানান, পাখি ও মুরগির জন্য পুষ্টিকর খাবার হচ্ছে ‘প্যারেড পোকা’। একটি স্ত্রী পোকা ৫০০ থেকে ৬০০টি ডিম পাড়তে পারে। ডিম থেকে বাচ্চা (লার্ভা) জন্ম নেয়। এরপর ২১ দিনে পোকা পরিপূর্ণ হলে তা পাখি ও মুরগির খাবার হিসেবে ব্যবহূত হয়। পোকার খাদ্য হিসেবে উচ্ছিষ্ট ও পচা খাবার ব্যবহূত হয়। এটি একটি লাভজনক খামার। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে ‘বায়োকনভার্শন ইনোভেটিভ’ সেন্টার শুরু করার লক্ষ্যে ১৫০ গ্রাম পোকা ২৫০ টাকায় কিনি। বর্তমানে আমার খামারে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার পোকা রয়েছে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে আরো বড়ো খামার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

নাটোর সদর উপজেলার উপসহকারী (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন বলেন, প্যারেড পোকা মাছ, হাঁস ও মুরগির খাবার হিসেবে খাওয়ানো হয়। এতে মাছ, মুরগির পুষ্টির চাহিদা মেটানো যায় এবং দ্রুত বৃদ্ধি হয়। বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রমজান আলী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে মৌমাছি ও রেশম পোকা চাষ হচ্ছে। প্যারেড পোকা বিশ্বনাথের এক প্রবাসী চাষ করছেন শুনেছি। তার খামার দেখে বলতে পারব পোকাটি উপকারী না অপকারী।