রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ায় জড়িত থাকলেই ব্যবস্থা :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাসপোর্ট পেতে সাহায্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা সরকারি কর্মকর্তারাই শুধু এর সঙ্গে জড়িত নন। আরো অনেক ধরনের মানুষ এ কাজে জড়িত। সবাইকে খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার সারাদেশে ৩১ হাজার ১০০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ঢাকায় ২৩৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া পূজায় এবার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে টেকনাফ, উখিয়াসহ পুরো কক্সবাজার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সব সময় হিমশিম খেতে হয়। কঠোর নজরদারির মধ্যেও যারা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দিচ্ছে, তারা হতে পারে কোনো চক্র। তবে যে-ই হোক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারও দলে শুদ্ধি অভিযানসংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু দলের লোক নয়, যারাই অপকর্ম করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রাজধানী ঢাকাসহ পূজা মণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা দিতে প্রতিটি বাহিনীকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালিত হয়, সরকার সে বিষয়ে তত্পর। সরকারের স্লোগান ‘ধর্ম যার যার উত্সব সবার। তাই প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবে। জেলা এবং উপজেলা সদরে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থাকবে। পাশাপাশি জরুরি সেবা  ‘৯৯৯’ সার্ভিস আরো কার্যকর থাকবে। উপকূলীয় এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোস্ট গার্ড এবং সীমান্তে প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিজিবি উপস্থিত থাকবে।