ডাকসু নির্বাচন ও হল সংসদ নির্বাচনে ভর্তি জালিয়াতির প্রতিবাদে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। ‘দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারের এ কর্মসূচিতে হামলা করেছে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের অনুসারীরা এ হামলায় নেতৃত্ব দেয়। পরে বিকাল ৪টায় শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন শিবলি রুবাইয়াতুল ইসলামকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। তবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়, ‘শিক্ষাবিরোধী কর্মসূচি’ দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ‘উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়’ হয়েছে। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোটের নেতাকর্মীরা।
হামলায় ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। আসিফের চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন রোকেয়া হলের ছাত্রী শ্রবণা শফিক দীপ্তি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ, নাজমুল, বিন ইয়ামিন মোল্লা ও সিফাত।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— অবৈধভাবে ভর্তি হওয়াদের ছাত্রত্ব ও ডাকসুর পদ বাতিল করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত উপনির্বাচন দেওয়া, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের পদত্যাগ করা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় ছাত্রলীগকে সহযোগিতা করতে নীরব ভূমিকায় ছিল প্রক্টরিয়াল বডি। হামলায় সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মেহেদী হাসান, সনজিত চন্দ্র দাসের অনুসারী শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের মাহফুজুর রহমান নেতৃত্ব দেন। হামলায় সরাসরি অংশ নেন তাদের অধীনে হলে থাকা প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগ কমিটির সদস্য সাব্বির হোসাইন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সাকিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী আল ইমরানসহ অনেকেই এ হামলায় অংশ নেন।
পরে এক সমাবেশে ডাকসু ভিপি নুরুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব সময়ই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীবাহিনীকে লেলিয়ে দেয়। আজও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরপর ডিনের কার্যালয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন ডাকসু ভিপি নুরুল হকসহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল। হামলার অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমার ও সনজিত চন্দ্র দাসের কোনো অনুসারী নেই। তথাকথিত রাজনৈতিক কারবারিরা ডিন কার্যালয় ঘেরাওয়ের মতো ষাট দশকের একটি কর্মসূচি ডেকেছিল। বর্তমান বাস্তবতায় এটি একটি শিক্ষাবিরোধী কর্মসূচি। আন্দোলনকারীরা আক্রমণাত্মক অবস্থায় ছিল। সেখানে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে।’
আর প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে দুই পক্ষকেই সংযত থাকতে বলা হয়েছে। মূলত সীমালঙ্ঘনের প্রবণতা থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।’ এদিকে অবৈধভাবে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে ফের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠনগুলো। আজ বৃহস্পতিবার ১২টায় টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও ডিন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে তারা।