বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়েছে আদালত। এতে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এসময় পলাতক ৯ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই সঙ্গে মামলার পরবর্তী তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ও ৩ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। ভিন্ন দুটি আদালতে এ মামলার বিচার হবে।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। এসময় মিন্নি ও শ্রাবণ জামিনে থাকায় তারা নিজেরাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজী শুনানি শেষে দুপুরে এ আদেশ দেন।
আদালতের বিচারক পুলিশের দাখিল করা দুই ভাগে বিভক্ত অভিযোগপত্রের মধ্যে শিশু অপরাধীদের শিশু আদালতে বিচারের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের জন্য পরবর্তী তারিখ ৩ অক্টোবর নির্ধারণ করেন।
এ মামলায় ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে ১ সেপ্টেম্বর আদালতে দুই ভাগে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির। যার মধ্যে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরবর্তীকালে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও ২৪ নম্বর আসামি আরিয়ান শ্রাবণ আদালত থেকে জামিন পায়। তবে চার্জশিটভুক্ত ৯ আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে ৭ জন বরগুনা জেলা কারাগারে এবং বাকি ছয় জন যশোর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে রয়েছে।
রিফাত হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মুজিবুল হক কিসলু জানিয়েছেন, এ মামলার ২৪ আসামির মধ্যে ১০ জনকে জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে ও বাকি ১৪ জনকে শিশু আদালতে বিচারের জন্য আলাদা করা হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে বিচারে নেওয়া ১০ আসামির মধ্যে রিফাত ফরাজীকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। বরগুনা থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে রিফাত ২ নম্বর আসামি ছিলেন। মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে করা হয়েছে ৭ নম্বর আসামি। আর কিশোর আদালতে বিচারের জন্য রিশান ফরাজীকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
রিফাত শরীফ হত্যায় চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হচ্ছে—রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হূদয় ওরফে টিকটক হূদয় (২২), মো. হাসান (১৯), মো. মুসা (২২), আয়শো সিদ্দিকা মিন্নি (১৯), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।
শিশু অপরাধী হিসেবে চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হচ্ছে- রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী (১৭), রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার (১৫), আবু আবদুল্লাহ ওরফে রায়হান (১৬), ওলিউল্লাহ ওরফে অলি (১৬), জয় চন্দ্র সরকার ওরফে চন্দন (১৭), মো. নাইম (১৭), তানভীর হোসেন (১৭), নাজমুল হাসান (১৪), রাকিবুল হাসান নিয়ামত (১৫), সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ (১৭), মারুফ মল্লিক (১৭), প্রিন্স মোল্লা (১৫), রাতুল শিকদার জয় (১৬) ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ (১৬)।
এদের মধ্যে মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, মুসা, রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, নাইম, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, আবু আবদুল্লাহ ওরফে রায়হান, সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ, মারুফ মল্লিক ও প্রিন্স মোল্লা এখনো গ্রেফতার হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
তাছাড়া মামলায় গ্রেফতারকৃত ছয় আসামি আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন, রেজোয়ান আলী খান হূদয় ওরফে টিকটক হূদয়, মো. হাসান, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল হাসান সায়মুনের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পর ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টায় রিফাত মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।