নারায়ণগঞ্জ শহরেও বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো নারায়ণগঞ্জ শহরেও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে শহরের দেওভোগ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। জানা গেছে, এসব কিশোর গ্যাং তৈরির নেপথ্যে কাজ করছে কতিপয় রাজনৈতিক নেতা। এসব প্রভাবশালী নেতার কারণেই কিশোর গ্যাং দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম এগোচ্ছে না। প্রভাবশালীদের ইন্ধনেই কিশোর গ্যাংগুলো শহরময় দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তবে এদের মূল আস্তানা হলো দেওভোগ এলাকা। এখানে এরা ফ্রি স্টাইলে চলাফেরা করে থাকে। প্রতিদিন স্কুলগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, অলিতে গলিতে আড্ডা দেওয়া আর মাদক সেবন, বিক্রি করাসহ নানা ধরনের অপকর্ম করে থাকে তারা। এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ভয়ে কেউ সচরাচর মুখ খোলে না। এমন কি পুলিশকেও জানানো হয় না।

স্থানীয়রা জানান, দেওভোগের চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকাটি সদর ও ফতুল্লা মডেল থানা এলাকার মাঝামাঝি। কোনো অপরাধী ধরা পড়লেও দুই থানার মধ্যে কে ব্যবস্থা নেবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়। আর এ সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে অপরাধীরা। সম্প্রতি শহরের দেওভোগ এলাকায় উঠতি বয়সি ছেলেদের নষ্ট করতে কয়েকটি বাড়িতে অসামাজিক কাজ চালুর অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি বাড়িকে ঘিরে দেওভোগ ও আশেপাশের এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে মাদক ব্যবসাসহ কিশোর গ্যাংদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। কিশোরদের মাদকব্যবসায়ে যুক্ত করতে মাদক ব্যবসায়ীরা নানা অভিনব উপায় বের করেছে।  দেওভোগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেওভোগ এলাকার চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার কয়েকটি বাড়িতে মাদকব্যবসাসহ অসামাজিক কার্যকলাপের জমজমাট আসর বসে। সুমন খন্দকার-রুমা দম্পতি নিজেদের বাড়িতে মাদকের আস্তানা গড়ে তুলেছে। সুমন খন্দকার মাদক বিক্রি করতে গিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার ধরা পড়েছে। সুমনের অবর্তমানে মাদকের ব্যবসা চালায় তার স্ত্রী রুমা।

স্থানীয়রা জানিয়েছে. প্রতিদিনই এই বাড়িসহ আশেপাশের আরো কয়েকটি বাড়িতে মাদকের হাট বসে। পুরো এলাকায় অপরিচিত লোকের আনাগোনা বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, হিজড়াদের মাধ্যমেও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। চলতি মাসের ৪ সেপ্টেম্বর ঐ এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ তিন তরুণকে আটক করে সদর মডেল থানাপুলিশ। ঐদিন রাতে নগরীর দেওভোগ চেয়ারম্যান বাড়ি বাইতুল জামে মসজিদের পেছনের মাঠ থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলো, দেওভোগের বাচ্চুর ছেলে শিপন (১৬), শাহজাহানের ছেলে সুমন (১৭) ও আহসান মিয়ার ছেলে আসিফ হাসান (১৭)। চলতি মাসের ৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিম দেওভোগ আদর্শনগর এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং মধ্যরাতে শাকিল নামে এক সিমেন্ট ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়া ঐ এলাকায় প্রায়ই বিভিন্ন স্থানে লুটপাট চালায় ও অস্ত্রের মহড়া দেয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। তাদের হামলায় আহত সিমেন্ট ব্যবসায়ী শাকিল ঐ এলাকার আব্দুল হালিম শেখের ছেলে। তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কিশোর গ্যাং দমনে অতিদ্রুত দেওভোগ এলাকায় পুলিশের অভিযান পরিচালনার দাবি করেছেন এলাকার লোকজন। এলাকার মুরুব্বিদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে অভিযোগ ওঠা বাড়িগুলোতে যাতে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে—এ দাবি জানিয়েছেন তারা।