ইত্তেফাক রিপোর্ট
জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট আবেদনের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানিতে রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব বলেন, এই রিটে সংসদ নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়নি। এমনকি কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষেও রিট করা হয়নি। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং নির্বাচন পরিচালনা করবে। এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী ইসির পক্ষে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনার ও নির্বাচন কর্মকর্তারা ওই ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। কিন্তু তারা এ ক্ষমতার প্রয়োগ না করে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ডিসিরা তা করছে। কিন্তু সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে। সেই হিসাবে ডিসিদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কোথায়? সাকিব মাহবুব বলেন, চলতি সংসদ নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে মাত্র ২২ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যদিও প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নির্বাচন কর্মকর্তারা রয়েছেন। এদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ শুনানি গ্রহণ করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত শুনানি মূলতুবি করে আদালত।
বৃহস্পতিবার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের পরিবর্তে ইসির আওতাভুক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুর রহমান। রিটে বলা হয়, ডিসিরা নির্বাচন পরিচালনাকারী হওয়ার সুযোগ নেই। এতে সাংবিধানিক বাধা রয়েছে। এরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে থাকেন। এরা সরাসরি নির্বাচন পরিচালনায় অংশ না নিয়ে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।