প্রসঙ্গ শুদ্ধি অভিযান

শুদ্ধি অভিযান চলছে। কিন্তু এতে কতটা শুদ্ধি আসবে বলে মনে করেন? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ইমেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো।

শুদ্ধি অভিযানের কথা আমরা বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন বিষয়ে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুনে থাকি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এর পরিসমাপ্তি ও ফলাফল দৃশ্যমান হয় না। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও শুদ্ধি অভিযান চলার কথা শুনি। কিন্তু এর ব্যাপকতা এবং যারা এই শুদ্ধি অভিযানের শিকার হতে পারেন তারা শিকার হন না। কিছু চুনোপুঁটি শুদ্ধি অভিযানের শিকার হয় এবং তাদের কথা মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। গডফাদার ও মূল হোতারা অন্তরালেই থেকে যান। আমরা যে শুদ্ধি অভিযানের কথা শুনছি, সেটা যদি যথাযথভাবে ও সময় নিয়ে ক্রমান্বয়ে পরিচালিত হয়, তাহলে হয়তো এর কিছুটা সুফল পেতে পারি এবং জনগণও স্বস্তি পেতে পারে।

মাখরাত খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

মুখে মুখে শুধু শুদ্ধি অভিযানের কথা বললেই হবে না। কর্মক্ষেত্রে সেটা দৃশ্যমান হতে হবে। সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে সর্বস্তরে সীমাহীন লোভের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রাজনৈতিক সরকারের সুনাম। সুতরাং প্রশাসন থেকে শুরু করে সব সেক্টরে স্বচ্ছতা আনতে হলে সরকারকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। এটাই এখন সবচেয়ে বড়ো কর্তব্য ও দায়িত্ব।

মো. ওয়াহিদউল্লাহ

স্টেডিয়াম সড়ক, সদর, ফেনী

স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কাউকে ছাড় নয়, সবার আমলনামা আমার কাছে’। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে গেছেন তিনি। আমরা তার এই হার্ডলাইনে যাওয়াকে স্বাগত জানাই। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের শ্রদ্ধেয়া প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারবেন এবং অবশ্যই শুদ্ধি অভিযানে দেশ সুন্দর থেকে সুন্দরময় হয়ে উঠবে।

অ্যাডভোকেট মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা

অনিয়ম, দুর্নীতি, অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের কথা শোনা যাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, যারা যে বিষয়ের ওপরে শুদ্ধি অভিযান চালাবেন, সেই শুদ্ধি অভিযানের শুদ্ধতার কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবেন কি না? যদি ব্যর্থ হন তাহলে জাতির পরাজয় হবে অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধের কাছে। একবার একটু ভেবে নিন, দয়া নয়, মায়া নয়, ছেড়ে দেওয়া নয়— এই প্রতিজ্ঞা করে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, জবরদখলকারী, খুনি, ধর্ষণকারী, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে শুদ্ধি অভিযানটি জনগণ এখন দেখতে চায়। প্রয়োজনে জনগণকে সম্পৃক্ত করে শুদ্ধি অভিযান চালালেই জাতি নিরাপদ থাকবে। আমাদের মনে রাখা উচিত, রাষ্ট্রের বড়ো শক্তি হচ্ছে জনগণ।

শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন হিরো

কালিহাতি, টাঙ্গাইল

সরকারের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে দেশের অভ্যন্তরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা ভালো। এতে করে জনসাধারণ কিছুটা হলেও সতর্কতা অবলম্বন করে চলে। আর ছিনতাইকারী, জোরজুলুমকারি, রাহাজানি, ধর্ষণ, দখলদার, চাঁদাবাজের মতো অপরাধীরাও সাময়িকভাবে কিছু দিনের জন্য আত্মগোপন করে থাকে। ফলে দেশের মানুষ শান্তিশৃঙ্খলা ও স্বস্তিতে বসবাস করেন। কাজেই দেশের জন্য ইহা একটি সুখবরও বটে। মোটকথা এ ধরনের অভিযান খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি। তবে সেই শুদ্ধি অভিযান যেন নিছক ব্যক্তি স্বার্থকেন্দ্রিক বা ব্যক্তি বিশেষকে শায়েস্তা করার জন্য যেন না হয়। সে দিকে কঠোর স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী

সেক্টর-২, হাউজিং এস্টেট, রাজশাহী-৬২০২

শুদ্ধি অভিযানের কথাকে এখন বাস্তবে রূপ দিতে হবে—এটাই হচ্ছে সবচেয়ে মূল কথা। এর শুরু করতে হবে এবং ফলাফলও আমরা সুন্দরভাবে দেখতে চাই।

মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন

হাইমচর, চরভৈরবী

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আজ প্রায় ৪৮ বছর। চার যুগ পার করেছে বাংলাদেশ। বিগত ৩ যুগ ছিল অনেক কণ্ঠকাকীর্ণ। আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, বিগত দশ বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কথাটা কিছুটা হলেও সত্য এবং তাই শুদ্ধি অভিযানের পদক্ষেপ সময় উপযোগী। আজকের পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠায় আছে ঢাকায় ৬০টি ক্যাসিনো চলে, এটা কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী জানে না।

তাই এই শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানাই।

খন্দকার কামরুজ্জামান

৩৬৩/১০ পীরেরবাগ,

মিরপুর, ঢাকা

শুদ্ধি অভিযান সবার জন্য সমানভাবে চালিয়ে যেতে হবে। সে রাজনীতিবিদ হোক কিংবা চাকরিজীবী কিংবা নির্বাচিত প্রতিনিধি। সবাইকে সমান নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। আর তখনই শুদ্ধি অভিযানের সঠিক ফলাফল আমরা পাব।

রাসেল আহমেদ

সাংবাদিক, মুগদা, ঢাকা

সর্বক্ষেত্রে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। ইদানীং রাজধানী ও দেশের অন্যান্য স্থানে খুন, ধর্ষণ, সড়ক দুর্ঘটনা, দুর্নীতি, অনিয়ম অনেক বেড়েছে—এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীকে আরো নজরদারিতে আনা এবং পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে শুদ্ধি অভিযান দৃশ্যমান হবে এবং দেশের মানুষ স্বস্তি পাবে।

অ্যাড. মো. রবিউল হোসেন রবি

কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা

শুদ্ধি অভিযানের কথা অনেক সময় শোনা যায়। কিন্তু পুরোপুরি বাস্তবায়নের বিষয়টি দেখা যায় না। অনিয়ম, অব্যস্থাপনা, ঘুষ দুর্নীতি, জবর দখলদারি, ধর্ষণ ইত্যাদি বিষয়গুলো এখন অনেক বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। তাই শুদ্ধি অভিযানের কথা আবারো শোনা যাচ্ছে। আমরা এবার এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

মাসুদ আলম বিপ্লব

উর্দুরোড, লালবাগ, ঢাকা

আমি মনে করি, বাংলাদেশের কোথায় কী হচ্ছে, কোথায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ কিংবা মূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কী পরিমাণে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে তার পুরো খবর রাখা সম্ভব না মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে। তবে তিনি চেষ্টা করেন খবরাখবর রাখার। তার আশপাশের দুই-একজন মানুষের কাছ থেকে জেনে যান ঠিকই। ভাবা যায়, কমিটি করে দেওয়ার এক বছরের মাথায় ছাত্রলীগ প্রধানদের এই দুরাবস্থা! প্রধানমন্ত্রী এও বুঝে গেছেন টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকায় অনেকের ভেতর ভাব এসে গেছে। অনেকের ব্যাপারে আকারে ইঙ্গিতে বলেছেনও, ভালো হয়ে যাবার জন্য।

এই ভাব কি একদিনে এসেছে? আসেনি, আশকারা পেতে পেতে আজকের এই অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছে। এদের গডফাদারদের আগে চিহ্নিত করতে হবে। যাদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর আশপাশেই থাকেন। যারা নিজেদের প্রয়োজনে আজকে অস্ত্র উঁচিয়ে ঘোরাফেরা করে, তাদেরকে ব্যবহার করেছে। টাকার দরকার? বস্তায় বস্তায় ভরে টাকা দিয়ে এসেছে, এমন অভিযোগও আছে। সেই টাকা কোথা থেকে এসেছে, কেউ খোঁজ করার প্রয়োজনবোধ মনে করেনি। দল চালানোর কথা বলে কিংবা দলের কোনো অনুষ্ঠানে টাকা লাগবে, অমুক এত, তমুক এত টাকার ব্যবস্থা করো। মুহূর্তেই চলে এসেছে টাকা। সেই টাকা কার বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে আনা হলো, কোন ব্যবসায়ীর গাঁট কেটে আনা হলো—তা প্রশ্ন করার প্রয়োজন অনুভব করেনি কেউই! তাই সময় এসেছে এদের বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি অভিযান’ পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করি...।

মোছা. বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর

শুদ্ধি অভিযানের কথা বলা হচ্ছে। যেহেতু অনেক অশুদ্ধি এখন দৃশ্যমান। দেশে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনেক। যখন ধরা হয় তখন বলা হয় তদন্ত হবে। বিচার হবে। কিন্তু পরে দেখা যায় যে তদন্ত, বিচার বা শাস্তির খবর আর পাওয়া যায় না। ফলে জবাবদিহির বাইরে শাস্তির ব্যত্যয়কে পাশ কাটিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েই চলে। তাহলে শুদ্ধি অভিযান হবে কীভাবে?

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

শুদ্ধি অভিযান দ্রুত শুরু করা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে শুদ্ধি অভিযান না থাকায় সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ফিরে আসবে। সমাজ ও দেশ থেকে বিতাড়িত হবে অপকর্ম, কুকর্ম, ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম স্বজনপ্রীতি, রাজনীতিতেও থাকবে না দুর্নীতিবাজ নেতাকর্মী। শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে সবক্ষেত্রে দুর্নীতি নির্মূল করা হোক।

ফারুক আহমেদ

বাঘমারা, রাজশাহী

শুদ্ধি অভিযানে শুদ্ধি আসবে তখনই যখন অভিযান পরিচালনার সময়ে রাজনৈতিক বা দলীয় কোনো প্রভাব থাকবে না। বিগত সময়ে মাদকদ্রব নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রশাসনের সহায়তা সারাদেশব্যাপী যখন শুদ্ধি অভিযান চালায় তখন টেকনাফের একজন গডফাদারের নাম বারবার চলে এসেছিল বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত রিপোর্টে কিন্তু কিছুই হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানে তেমন কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে পারে নাই অভিযান কর্তৃপক্ষ। সুতরাং জনগণ এমন শুদ্ধি অভিযানই দেখতে চায় যেখানে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব থাকবে না। শুদ্ধি অভিযানের ফলে অনেক অপরাধীরা ধরা পড়ে আবার অনেকে অপারাধ প্রবণতা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখে। তাই সকল শুদ্ধি অভিযান সকলের কাম্য।

মো. আবুল কালাম আজাদ

সর্দারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ

সরকারের নানামুখী শুদ্ধি অভিযান যদি সফলতার সাথে অব্যাহত থাকে, তাহলে সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ করা এবং দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়া কোনো কঠিন বিষয় নয়। পাশাপাশি নদী দখল ও দূষণ রোধ করাও সম্ভব। সরকার ইতিমধ্যে জঙ্গি দমনে সফল হয়েছে। অন্যান্য সামাজিক অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও সরকারের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। সরকারের ইতিবাচক কাজের ধারাবাহিকতা যদি বজায় থাকে তা হলে বাংলাদেশ অচিরেই উন্নত, নিরাপদ ও সুখী দেশে পরিণত হবে, এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

অমিত বণিক

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক, উত্তরা, ঢাকা

শুদ্ধি অভিযানে যদি কোনো শুদ্ধতা না আসে সরকারের জন্য তা হবে বড়ো চ্যলেঞ্জিং ও কঠিন অবস্থা। প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে কেন্দ্রীয় নেতা এবং সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ব্যাপারে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং সেই সঙ্গে তাদের আমলনামা পর্যবেক্ষণ করে, যত তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিয়ে এই শুদ্ধি অভিযানের সমাপ্তি ঘটাতে পারবেন তাই হবে বর্তমান সরকারের অর্জনের ধারাবাহিক সফলতা। অন্যথায় সরকারের এযাবত্কালের সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাবে।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

হকভিলা, মেরাদিয়া, সিপাহীবাগ, ঢাকা