ফুকুশিমায় ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার দায় থেকে অব্যাহতি পেলেন সাবেক তিন নির্বাহী কর্মকর্তা। গতকাল জাপানের একটি আদালত তাদের ঐ দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করে।
আট বছরেরও বেশি সময় আগে সুনামির আঘাতে সেখানকার টেপকো (টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার) পারমাণবিক প্লান্টটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ কারণে তখন প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত কিংবা নিখোঁজ হন। এছাড়া অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় হাজার হাজার মানুষকে। সুনামির কারণে টেপকো থেকে তিন দফায় পারমাণবিক জ্বালানি গলে যায়। এতে সরাসরি আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা না গেলেও কোম্পানির তিন নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠে। এ কারণে তাদেরকে আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। এ মামলার রায়ে গতকাল টোকিওর আদালত টেপকোর সাবেক চেয়ারম্যান সুনেইশা কাতসুমাতো (৭৭), ভাইস প্রেসিডেন্ট সাকায়ি মুতো (৬৬) এবং ইসিরো তাকেকুরোকে (৭১) পেশাগত কাজে দায়িত্বে অবহেলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়। কিন্তু তারা যদি এতে দোষী সাব্যস্ত হতেন তবে তাদের প্রত্যেকের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতো।
শুনানিতে প্রসিকিউটররা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, সাবেক এই কর্মীদের সুনামির ঝুঁকি বোঝা উচিত ছিল এবং যেসব তথ্য তাদের হাতে ছিল সে অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সাবেক এই নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয় তার সঙ্গে দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪০ জন রোগীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব রোগীকে প্লান্ট এলাকা থেকে সরিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তারা মারা যায়। একটি বিচার বিভাগীয় প্যানেল এই তিন কর্মকর্তাকে বিচারের মুখোমুখি করার রায় দেওয়ার পর ২০১৭ সালের জুনে শুরু হয় এই বিচার। এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারার সম্ভাবনা খুবই সামান্য বলে আগেও সতর্কতা প্রকাশ করেছিলেন প্রসিকিউটররা।
২০১১ সালে ফুকুশিমার বিপর্যয়ের পর জাপানের সব পারমাণবিক প্লান্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পারমাণবিক মনোভাব জোরালো হওয়া সত্ত্বেও তারপর কয়েকটি প্লান্ট বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উত্তীর্ণ হয়ে কাজ শুরু করে। সেদিনকার সেই পারমাণবিক দুর্ঘটনাকে ১৯৮৬ সালে চেরনেবিল দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ দুর্ঘটনা বলে অভিহিত করা হয়। আজও জাপানের মানুষ সেই দুর্ঘটনার কথা মনে করে আঁতকে উঠে।