চট্টগ্রামে হঠাত্ জুয়ার আসর বন্ধ হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে অর্ধশত স্থানে জুয়ার আসর বসে। এখানে বিদেশি আদলে ক্যাসিনোও রয়েছে বলে জানা যায়। গত বুধবার ঢাকায় ব্যাপক অভিযানের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের বড়ো বড়ো জুয়ার আসর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। জুয়ার আসর পরিচালনাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগেই অনেক আসর বন্ধ করে দেয়। সন্ধ্যায় অনেক আসরে লোকজন আসতে শুরু করলেও তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক ক্লাব বা ব্যক্তি পর্যায়ের বাসাবাড়িতে থাকা জুয়ার আসরের রুমে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত অধিকাংশ ক্লাবেই জুয়ার আসর বসে থাকে। অনেক ক্লাবে পরিচালনার সিংহভাগ টাকা ক্লাব পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পকেটে যায়।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ফ্রেন্ডস ক্লাব, আবাহনী ক্লাব, মোহামেডান ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রসহ স্পোর্টসের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ক্লাবগুলোতে প্রতিদিন অর্থের বিনিময়ে তাস বা কার্ড খেলা হয়ে থাকে। বিভিন্ন স্পোর্টসসংশ্লিষ্ট ক্লাব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ক্লাবসমূহে জুয়ার টাকায় পরিচালনা ব্যয়ের অনেকাংশ নির্বাহ করা হয় বলে ক্লাবসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান। তাদের মতে ক্লাব পরিচালনায় পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন; কিন্তু লিগ্যাল কোনো অর্থের উত্স না থাকায় জুয়ার আসর থেকে পাওয়া নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ক্লাব পরিচালনায় ব্যয় করা হয়। আবার দেখা যায়, অনেক ক্লাব জুয়ার কয়টি বোর্ড চলবে তা নির্দিষ্ট করে দিয়ে মাসিক, সাপ্তাহিক কিংবা দৈনিক ভিত্তিতে টাকা তুলে থাকে। জুয়ার টেবিল থেকে পাওয়া টাকা যেমন অনেক ক্লাবের আয়ের উত্স। একইভাবে জুয়ার আসর পরিচালনা করে অনেকে তার জীবন-নির্বাহ করে থাকে। এই অবৈধ কাজ অনেকের পেশায় পরিণত হয়েছে। জুয়া খেলে অনেকে ফতুর হয়ে যাওয়ার অসংখ্য নজির রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, জুয়ার আসরে হাজির হয় স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের লোকজন। জুয়ার কারণে পরিবারগুলোর মধ্যে অশান্তি ও বিচ্ছেদের অসংখ্য ঘটনা রয়েছে।
গত বুধবার ঢাকায় বিভিন্ন ক্লাবে অভিযানের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠিত ক্লাবগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম মোহামেডান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস) এর অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ইত্তেফাককে জানান, ঢাকায় বিভিন্ন ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের প্রেক্ষিতে মোহামেডান ক্লাবে গত বুধবার থেকে সব ধরনের তাস খেলা বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা যায়, চট্টগ্রামে অনেক ক্লাব রয়েছে যার প্রতিদিন জুয়ার বোর্ড থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় করে থাকে। ১০ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার আয় বেশ কয়েকটি ক্লাব থেকে হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠিত ক্লাব ছাড়াও নগরীর কয়েকটি অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন বাসাবাড়ি কিংবা অফিসের নির্দিষ্ট কক্ষে জুয়ার আসর বসে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের জ্ঞাতসারেই প্রতিটি জুয়ার আসর বসে থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তাছাড়া এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। প্রতিটি ক্লাব কিংবা ক্যাসিনো পরিচালনায় প্রভাবশালী লোকজনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন এবং অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয়-প্রশ্রয়ে হয়ে থাকে। ক্যাসিনোসহ জুয়ার ন্যায় অবৈধ গেম পরিচালনার সঙ্গে নেশাজাতীয় পণ্যের অনেক ক্ষেত্রে সংমিশ্রণ ঘটে থাকে; কিন্তু জুয়ার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড যেখানে প্রতিদিন চলে আসছে সেখানে অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও বাধা দেওয়ার নজির তেমন একটা দেখা যায় না।
নগরীর ওয়াজি উল্লাহ ইনস্টিটিউট, অফিসার্স ক্লাব, সৈনিক ক্লাবসহ পাহাড়তলী, হালিশহর, ডবলমুরিং, বন্দর রিপাবলিক ক্লাব, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, চকবাজার, জিইসি মোড, অক্সিজেন মোড়, কোতোয়ালি থানা এলাকায় বেশ কয়েকটি বড়ো জুয়ার আসর বসে থাকে। সূত্র জানায়, বড়ো বড়ো জুয়ার আসর পরিচালনাকারীদের অনেকে গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকার অভিযানের পরপরই তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জুয়ার আসর পরিচালনায় জড়িত কিন্তু সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীরাও আত্মগোপনে চলে গেছে। তাদের খোঁজে অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনায় তারা গা ঢাকা দেয় বলে জানা যায়। তবে সূত্র জানায়, ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরে যে কোনো মুহূর্তে অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।