ভূমিকম্পের ব্যাপারে আগাম কোনো সতর্ক সংকেত দেয়া সম্ভব হয় না

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক

হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর

১। ঘটনা-১: গতকাল রিফাত TV-র সংবাদে জানতে পারল যে,ঢাকার একটি নামকরা শপিংমলের ১১ ও ১২ তলায় সংগঠিত একটি দুর্ঘটনায় বেশ কিছু দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হয়। একটি বিশেষ বাহিনী সদস্যরা এসে উক্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।                                                                                                                                                             ঘটনা-২: গত ২৫ এপ্রিল ২০১৫ বেলা ১১:৫৬ মিনিটে বাংলাদেশসহ সমগ্র নেপাল একযোগে কেঁপে উঠে। এতে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহুলোকের হতাহতের খবরও পাওয়া যায়। আমরা যদি একটু সাবধান হই তাহলে এ ক্ষতির পরিমাণ কমানো যেতে পারে।

ক) বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়কারী গ্যাসটির নাম কি ?                                                                                                                                                                                      খ) গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়া বলতে কী বোঝ ?                                                                                                                     গ) উদ্দীপকে ঘটনা-১ এর দুর্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ) ঘটনা-২ এর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে তুমি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পার ? মতামত দাও।                                                                                                                                                             

ক) উত্তর : বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়কারী গ্যাসটির নাম হাইড্রো ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন (এইচসিএফসি) গ্যাস।                                                                                               

খ) উত্তর : গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়া বলতে গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়াকে বোঝায়। কার্বন-ডাই-অক্সাইড,নাইট্রাস অক্সাইড,সিএফসি ইত্যাদি গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে ঘিরে একটি আচ্ছাদন তৈরি করে। তাপ এই আচ্ছাদন ভেদ করে পৃথিবীতে আসতে পারে;কিন্তু বিকিরিত তাপ বায়ুমণ্ডলে আটকা পড়ে। এইভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

গ) উত্তর: উদ্দীপকে ঘটনা-১ এর দুর্যোগটি হলো অগ্নিকাণ্ড। অগ্নিকাণ্ড যেমন প্রাকৃতিক কারণে ঘটে আবার অসাবধানতা ও দুর্ঘটনাজনিত কারণেও ঘটতে পারে। প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে কোনো কোনো দেশের বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে দেখা যায়। একে দাবানল বলে। আমাদের দেশে সাধারণত দাবানল ঘটে না। এখানে অসাবধানতা ও দুর্ঘটনাই অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ। অসাবধানতা ও দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড সাধারণত শিল্পকারখানা, তেল শোধনাগার ,গার্মেন্টস, শিল্প,পাটকল,পাটের গুদাম,রাসায়নিক গুদাম বা কারখানা এমনকি বসতবাড়ি, দোকানপাট,শপিংমল, অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ঘটতে দেখা যায়। এছাড়াও গ্রাম ও শহরাঞ্চলে জলন্ত চুলা,কুপি,মশার কয়েল,সিগারেটের আগুন, হারিকেন প্রভৃতি থেকেও অসাবধানতাবশত অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।

উদ্দীপকে ঘটনা-উদ্দীপকে ঘটনা-১ এর দুর্যোগ অর্থাত্  অগ্নিকাণ্ডের কারণও ছিল মানুষের অসাবধানতা।

ঘ) উত্তর : ঘটনা-২ এর দুর্যোগটি হলো ভূমিকম্প। পৃথিবীতে যতরকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে তার মধ্যে ভূমিকম্পই সবচেয়ে অল্প সময়ে সবচেয়ে বেশি ধ্বংস যজ্ঞ ঘটায়। ভূমিকম্পের ব্যাপারে আগাম কোনো  সতর্ক সংকেত দেওয়া সম্ভব হয় না। ভূমিকম্পের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তা হলো-বাড়তি দরজা থাকা প্রয়োজন।

প্রাথমিক চিকিত্সা সামগ্রী, হেলমেট,টর্চ লাইট প্রভৃতি মজুত রাখতে হবে। ভূমিকম্পের সময় আশ্রয় নেওয়ার জন্য একটি মজবুত টেবিল রাখতে হবে। ভারি আসবাবপত্র মেঝের উপরে রাখতে হবে। ব্যবহারের পর বৈদ্যুতিক বাতি ও গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখতে হয়। সেই সাথে ভূমিকম্প শুরু হলে শক্ত টেবিল বা শক্ত কাঠের আসবাবপত্রের নিচে অবস্থান নিতে হবে। দ্রুততার সাথে বৈদ্যুতিক সুইচ ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে দিতে হবে। বাড়ির আশেপাশে খোলা জায়গা থাকলে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় যেতে হবে। ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার করা উচিত না। সেই সাথে ভূমিকম্পের পরে আহত লোকজনকে হাসপাতালে নিতে প্রয়োজনীয় তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দুর্গত মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র,খাবার ও পানির ব্যবস্থা করতে হবে।