১৬ বছর ধরে নেই চিকিত্সক

গাইবান্ধা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল

তাজুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি.          

গাইবান্ধা জেলার একমাত্র প্রাণী হাসপাতাল। জেলা শহরের ভিএইড রোডে অবস্থিত। কিন্তু গত ১৬ বছর ধরে এখানে কোনো চিকিত্সকই (ভেটেরিনারি সার্জন) নেই। গাড়িচালক ও অফিস সহায়কের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। তবে একজন কম্পাউন্ডার, অফিস সহকারী একজন এবং একজন অ্যানিম্যাল অ্যাটেনডেন্ট রয়েছেন। কিন্তু চিকিত্সক (ভেটেরিনারি সার্জন) না থাকায় বিগত ২০০২ সাল থেকে সরকারি এই প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। তাই বর্তমানে বহাল ঐ তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত অফিসে এসে অলস সময় পার করে ফিরছেন বাড়ি। এদিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়েও গত চার মাস ধরে ভেটেরিনারি সার্জনের (চিকিত্সক) পদটিও শূন্য। এমন পরিস্থিতিতে জেলার খামারি ও পশু পালনকারীদের এখন একমাত্র ভরসা গ্রাম্য হাতুড়ে পশু চিকিত্সক। তাই বড়ো রকমের ঝুঁকিতে পড়েছে জেলার প্রাণিসম্পদ। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও তিস্তা নদীবিধৌত জেলার চারটি উপজেলার শতাধিক চরে যে সম্ভাবনাময় প্রাণিসম্পদের খামার গড়ে উঠেছে, তা যেকোনো সময় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট গবাদি পশুর সংখ্যা ১৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪১ এবং হাঁস-মুরগির সংখ্যা ৬৮ লাখ ৮৩ হাজার ৩১২। এর মধ্যে গরু ৮ লাখ ৪৭ হাজার ৪৩৫টি। মহিষ ১৫ হাজার ৩৯৫টি এবং ছাগল ৭ লাখ ২ হাজার ৯৫৬টি। জেলায় ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে ৬৮৮টি গরুর খামার, ৩৬৬টি ভেড়ার খামার এবং ২২১টি ছাগলের খামার। অন্যদিকে রয়েছে হাঁসের খামার ১৮০টি, ব্রয়লার মুরগির খামার ৬৯৪টি এবং লেয়ার মুরগির খামার ২৩টি। কিন্তু এগুলোর চিকিত্সা ও ভ্যাকসিনেশনের জন্য জেলার সাতটি উপজেলা পর্যায়ে কোনো ভেটেরিনারি হাসপাতাল নেই। সাত উপজেলার ৮২টি ইউনিয়নেরও কোথাও নেই পশু-পাখি চিকিত্সার জন্য সরকারি কোনো ব্যবস্থা।

জেলার একাধিক খামারি জানান, ওষুধ বিক্রয়কারী দোকানি, কোম্পানির প্রতিনিধি ও কিছু গ্রাম্য হাতুড়ে পশু চিকিত্সকের অবৈজ্ঞানিক পরামর্শ এবং আন্দাজের ওপর ভর করে চলছে জেলার পশু-পাখির চিকিত্সা ও পরিচর্যা। এতে জেলার প্রাণিসম্পদের যথাযথ চিকিত্সার অভাব এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকসহ নানা ধরনের ভুল ওষুধ প্রয়োগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পশু-পাখি পালনকারী ও খামারিরা। 

জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মিহির ঘোষ জানান, কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবেই সারাদেশে পরিচিত উত্তরের গাইবান্ধা জেলা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্পকারখানা এখানে গড়ে ওঠেনি। তাই এই জেলাবাসীর কাছে চাষাবাদের পাশাপাশি গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি প্রতিপালন বেশ জনপ্রিয়। ফলে গাইবান্ধায় প্রাণিসম্পদ একটি বিরাট সম্ভাবনাময় খাত। কিন্তু সরকারের সুদৃষ্টি না থাকায় এই খাত অবহেলায় পড়ে আছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস ছামাদ জানান, জেলার বেশিরভাগ পশু খামারের অবস্থান যেমন গ্রামে, তেমনি গ্রামাঞ্চলের বাড়িঘরে গবাদি পশু পালন বেশি। এ কারণে প্রতিটি ইউনিয়নে পশু চিকিত্সার ব্যবস্থা করলে এই খাতে গ্রামীণ নারীসহ উদ্যোক্তার সংখ্যা যেমন আরও বৃদ্ধি পাবে, তেমনি বেকার তরুণেরাও এই খাতে বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন। জেলার একমাত্র ভেটেরিনারি হাসপাতালে ১৬ বছর ধরে কোনো চিকিত্সকই নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই পদে কোনো চিকিত্সক পদায়ন করা হয়নি।