স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে
অনতিক্রম্য না হলেও আফগানিস্তানের সঙ্গে চলতি মাসে পেরেই উঠছে না বাংলাদেশ দল। ঘরের মাঠে আফগানদের কাছে নাস্তানাবুদ হচ্ছে বাংলাদেশ। টেস্টের পর টি-২০ তেও রশিদ খানরা অনায়সে হারিয়েছে সাকিব আল হাসানের দলকে। যদিও বাংলাদেশের পেসার শফিউল ইসলাম গতকাল বলেছেন, আফগানদের হারানো খুব সম্ভব। জয়ের অভ্যাসটা ধরে রাখার লক্ষ্যেই আজ খেলতে নামবে বাংলাদেশ।
ত্রিদেশীয় সিরিজে লিগ পর্বে নিজেদের চতুর্থ ও শেষ ম্যাচে আজ আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। যেটিকে ধরা হচ্ছে ফাইনালের মহড়া। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়।
মিরপুরে আফগানদের সঙ্গে আগের সাক্ষাতে বোলিংটা ভালোই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ইনিংসের মাঝপথে লাগাম ছুটে যায়। আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবির ব্যাটিংয়ে বড়ো পুঁজি গড়ে দলটি। তাতেই চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। আফগানদের ১৬৪ রানটা আর পাড়ি দিতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। টানা চার টি-টোয়েন্টিতে আফগানরা হারিয়েছে সাকিবদের।
শফিউল বলছেন, ক্রিকেটের খুদে সংস্করণেও আফগানদের হারানো সম্ভব। আগের ম্যাচের তুলনায় ভুলের সংখ্যা কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। গতকাল অনুশীলন শেষে ডানহাতি এই পেসার বলেছেন, ‘আমাদের যে ভুলগুলো হয়েছে সেটা যদি আমরা শোধরাতে পারি, আমরা যদি যে যার জায়গায় শতভাগ দিতে পারি তাহলে ওদের হারানো সম্ভব।’
শুধু বোলিং, ব্যাটিং নয়, আফগানদের বিরুদ্ধে ফিল্ডিংয়েও যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের। অতিরিক্ত থেকেই ১৮ রান দিয়েছিল। যার মধ্যে উইকেটকিপার মুশফিকই দিয়েছেন অন্তত ১০ রান। সাকিবের বলে বাই হয়ে দুটি চার হয়েছে। দুইবারই বল ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন মুশফিক। এছাড়া বোলিংয়ে তাইজুলের নো বল অনেক ভুগিয়েছিল বাংলাদেশকে। নো বলের পর ঐ ওভারে ১৬ রান দিয়েছিলেন তিনি।
শফিউল আরো বলেছেন, জয়ের অভ্যাস ধরে রেখেই ফাইনালে যেতে চায় বাংলাদেশ দল। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় ভালোমতো প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ভালোমতো। কালকের (আজ) ম্যাচ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি ভালো খেলি তাহলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আগের ম্যাচ জিতেছি, এই অভ্যাস আমাদের ফাইনালে অনুপ্রাণিত করবে।’
একদিন বিশ্রামের পর গতকাল সকালে অনুশীলন করেছে সাকিব বাহিনী। সাগরিকায় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন ক্রিকেটাররা। লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের না খেলার বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট। ব্যান্ডেজ হাতেই মাঠে এসেছিলেন এই তরুণ। ভারপ্রাপ্ত স্পিন কোচ সোহেল ইসলামের সঙ্গে কিছুক্ষণ বোলিং করেছেন। তবে সেটা শুধুই নিজেকে ফিট রাখার জন্যই।
অনুশীলনে এসেই সোজা নেটে ব্যাটিং করতে চলে গিয়েছিলেন সাকিব। আলাদা করে লিটন-সাকিবদের নিয়ে কাজ করেছেন ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি। দেখা গেছে, সাকিবকে স্কুপ খেলার প্রক্রিয়াটা দেখিয়েছেন। স্কুপ খেলার সময় ব্যাট আড়াআড়ি না করে সোজা করে ধরতে বলেছেন ম্যাকেঞ্জি। শ্যাডো করে দেখিয়েছেন তিনি।
লিটনকেও আফগান স্পিনারদের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে স্কুপ, রিভার্স সুইপের চেয়ে মিড অফ-মিড অনেক বেশি শটস খেলতে বলেছেন তিনি। মুজিব-নবিদেরকে মিড উইকেট দিয়ে মারার প্রবণতা দেখা গেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মাঝে।
ম্যাকেঞ্জির পরামর্শ ছিল, সোজা ব্যাটে খেলার। ক্রিকেটের ভাষায় যেটিকে ‘ভি’ তে খেলা বলে থাকে। ম্যাকেঞ্জির পরামর্শ লিটনরা কতটা কাজে লাগাতে পারবেন তা আজই দেখা যাবে।