শ্রীলঙ্কা দলের সফর চূড়ান্ত
স্পোর্টস ডেস্ক
চূড়ান্ত হলো শ্রীলঙ্কা দলের পাকিস্তান সফর। পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়েই ক্রিকেট শ্রীলঙ্কা (এসএলসি) জানিয়েছে যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে এই সিরিজ। এক বিবৃতিতে তারা এই খবর নিশ্চিত করে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কা দলকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাই দেওয়া হবে।
লঙ্কান সরকারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল যে, পাকিস্তানে গেলে তাদের ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে। এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসে এসএলসিও। সরকারের সহায়তায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ফের পর্যবেক্ষণ করে দেখে তারা। এবার তাতে আশ্বস্ত হওয়ার পরই আসল চূড়ান্ত ঘোষণা।
এসএলসি বলেছে, ‘শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষা মন্ত্রণালয়ের হয়ে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জে আর কুলাথুঙ্গা নিশ্চিত করেছেন যে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরে নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো ঝুঁকি নেই।’
নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে, সেই ব্যাপারে আভাস দিলেন একজন পিসিবি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে সিন্ধ পুলিশ ও পাকিস্তান রেঞ্জার্স। আর ব্যাক আপ হিসেবে সবসময় প্রস্তুত থাকবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। রেঞ্জার্স হলো প্যারামিলিটারি দল, যারা মূলত স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট নামে পরিচিত। খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিসিয়াল—প্রত্যেকের প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে আমাদের নজর থাকবে।’
২৭ সেপ্টেম্বর থেকে করাচিতে শুরু হওয়ার কথা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর লাহোরে পাঁচ অক্টোবর থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
নিরাপত্তার ইস্যুতে শ্রীলঙ্কা দল থেকে শীর্ষ ১০ খেলোয়াড় নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর মধ্যে দুই ফরম্যাটের অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা ও দ্বিমুথ করুনারত্নেও রয়েছেন। নেই শীর্ষ ক্রিকেটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসও। সফরকারীদের নেতৃত্বে থাকবেন লাহিরু থিরিমান্নে।
২০০৯ সালে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের বাইরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের টিম বাসে ১২ জন বন্দুকধারী হামলা করে। ছয় শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার আহত নন। ছয় জন পাকিস্তানি পুলিশসহ মোট আট জন সেদিন সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ হারায়। সেই ঘটনার জের ধরে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন একদম নিষিদ্ধ হয়ে যায়। বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগও হারায় পাকিস্তান।
সেই হামলার দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ে দল পাকিস্তান সফর করে। এরপর সেখানে আস্তে আস্তে ক্রিকেট ফিরতে শুরু করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও আইসিসির বিশ্ব একাদশও পাকিস্তান সফর করে এসেছে।