পৃথিবীর বাইরে অন্য কোথাও কি প্রাণীর বসবাস রয়েছে? শত বছর ধরে মানুষ এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজে চলেছেন। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা গ্রহ থেকে গ্রহে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজতে বিজ্ঞানীরা ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলের বুকে পাড়ি দেওয়ার পর এখন সেখানকার মাটিতে খোঁড়াখুঁড়ি করতে চলেছে নাসা। মঙ্গলের পিঠে সেই খোঁড়াখুঁড়ি করা হবে এক থেকে দেড় ফুট গভীরতা পর্যন্ত।
এখনো মঙ্গলে অণুজীব রয়েছে কি না, থাকলে তা লাল গ্রহের মাটির কতটা গভীরে রয়েছে? এরা অক্সিজেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইডের ওপর নির্ভর করে বাঁচে নাকি তাদের ভরসা করতে হয় মিথেন বা ইথেনের মতো কোনো হাইড্রোকার্বনের ওপর এসব তথ্য জানতেই মূলত এই খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করবে নাসা।
নাসা সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলে সেই খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করার আগে পৃথিবীতে সেই প্রযুক্তির একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিতে চায় নাসা। তার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে চিলির বিখ্যাত আটাকামা মরুভূমিতে। কারণ আটাকামা মরুভূমির ভূত্বকের অনেকটাই মঙ্গলের রুখুসুখু পিঠের মতো। আটাকামায় সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী সোমবার।
মঙ্গলে প্রাণের খোঁজে ওই পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রকল্পের নাম- ‘দ্য আটাকামা রোভার অ্যাস্ট্রোবায়োলজি ড্রিলিং স্টাডিজ’ (এআরএডিএস বা ‘অ্যারাড্স?’)। মঙ্গল খোঁড়ার সেই প্রকল্পে নাসা প্রযুক্তিগত সহায়তা নিচ্ছে যে সংস্থার তার নাম- ‘হানিবি রেরাবোটিক্স’। নাসার ‘এমস রিসার্চ সেন্টার’ থেকে মঙ্গলে খোঁড়াখুঁড়ির জন্য রওনা হয়েছে সেই যন্ত্রও। মঙ্গলে পাঠানো রোভারের মধ্যেই রাখা থাকবে খোঁড়াখুঁড়ির যাবতীয় সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি। লাল গ্রহের মাটি খুঁড়ে যা যা পাওয়া যাবে, সেগুলো পরীক্ষা করেও দেখতে পারবে এই যন্ত্র। সব পরীক্ষা করে সেই যন্ত্রই জানিয়ে দেবে, মঙ্গলের অন্তরে-অন্দরে এখনো অণুজীবের অস্তিত্ব রয়েছে কি না। থাকলে সেই অণুজীব কি একেবারে পৃথিবীর মতোই? নাকি অন্য ধরনের, অভিনব? কনকনে ঠান্ডায় খোঁড়াখুঁড়ির যন্ত্রপাতিগুলো ঠিকঠাকভাবে কাজ করবে কি না, তা-ও পরীক্ষা করে দেখা হবে আটাকামা মরুভূমিতে। সে জন্য সেখানে বানানো হয়েছে একটি গবেষণাগার, যেখানে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে মঙ্গলের পরিবেশ। -অ্যাস্ট্রোবায়োলজি ডট কম