রোহিঙ্গাদের এনআইডি

চুরি যাওয়া ল্যাপটপসহ ইসির কর্মী গ্রেফতার

রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মোস্তফা ফারুক নামে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের এক অস্থায়ী কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া। জিজ্ঞাসাবাদে রোহিঙ্গাদেরকে অবৈধভাবে এনআইডি পাইয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মোস্তফা ফারুকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর হামজারবাগে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে নির্বাচন কমিশনের চুরি যাওয়া ল্যাপটপ, মডেম, পেনড্রাইভ, সিগনেচার প্যাড ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা দুটি পেনড্রাইভে রোহিঙ্গা ও নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মোস্তফাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে রাজেশ বড়ুয়া জানান। মোস্তফা সর্বশেষ বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অধীনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে টেকনিক্যাল সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে কাজ করছিলেন।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘মোস্তফা এনআইডি জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত। তার কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি নির্বাচন কমিশনের চুরি যাওয়া ল্যাপটপ। এছাড়া তার কাছ থেকে পেনড্রাইভ, নির্বাচন কমিশনের একটি মডেম, আইডি কার্ড লেমিনেটিং করার ৫০টি কাগজ, তিনটি সিগনেচার প্যাড ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এনআইডি জালিয়াতির ঘটনায় এর আগে গ্রেফতার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের অফিস সহকারী জয়নাল আবেদীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মোস্তফার বিষয়ে জানতে পারেন তারা।

মোস্তফা ফারুকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ : পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অস্থায়ী কর্মী হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে মোস্তফা ফারুক অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের নামে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের যে চক্রের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, মোস্তফা ঐ চক্রের অন্যতম সদস্য। জানা যায়, বিভিন্ন অভিযোগে বারবার চাকরিচ্যুত হওয়া সত্ত্বেও ‘উপর মহলের আশীর্বাদে’ চাকরিতে বারবার পুনর্বহাল হয়েছেন মোস্তফা। মিরসরাইয়ে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট হিসেবে কর্মরত থাকার সময় নির্বাচন কার্যালয়ের একটি ল্যাপটপ হারানোর ঘটনায় মোস্তফার নাম জড়িয়ে পড়ে। জেলা নির্বাচন কার্যালয় বিষয়টি তদন্ত শুরু করলেও এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তদন্ত ফাইলটি গায়েব হয়ে যায়। ২০১৬ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা-উপজেলায় ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে ১০৬ জনকে নিয়োগ দেওয়ার সময় মোস্তফা চাকরি দেওয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে আন্দরকিল্লা এলাকায় হাবিবুল্লাহ নামে এক মৃত ব্যক্তিকে ভোটার করার অপরাধে ২০১৭ সালে মোস্তফার চাকরি চলে যায়। ২০১৮ সালে ঊর্ধ্বতন মহলের সুপারিশে ডবলমুরিং থানার টেকনিক্যাল এক্সপার্ট হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পান মোস্তফা। তবে স্মার্ট কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে আবার তার চাকরি চলে যায়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় নামে-বেনামে আবার টেকনিক্যাল সাপোর্ট হিসেবে নিয়োগ পান এই মোস্তফা। তবে বিভিন্ন উপজেলার নিয়োগপত্রে মোস্তফা ফারুকের নামের সাদৃশ্য নেই। নিয়োগপত্রে তার নাম কোথাও ‘মোস্তফা ফারুক’ আবার কোথাও ‘মো. মোস্তফা’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।