অস্ট্রেলিয়া ঠেকিয়ে দিল বাংলাদেশকে

   এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল

 স্পোর্টস রিপোর্টার

খেলার মাঠে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ মানেই যেন ক্রিকেট লড়াই। এর বাইরে এই দুই দেশের মধ্যে অন্য খেলা খুব একটা বেশি হয়ও না। ক্রিকেটের লড়াইয়ের ভিড়ের মাঝে আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দলের লড়াই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবল লড়াই এবার সবার আলোচনায়। থাইল্যান্ডের চুনবুরিতে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ গ্রুপ পর্বের ফুটবলে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ঠেকিয়ে দিয়েছে। দুর্বল বাংলাদেশের বিপক্ষে যেখানে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়ার কথা, সেখানে উলটো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ২-২ গোলে বাংলাদেশের ফুটবল দলের বিপক্ষে ড্র করে মান বাঁচিয়েছে। এ গ্রুপ থেকে জাপান পরবর্তী রাউন্ডে উঠে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন দুমড়েমুুচড়ে ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররা। এই প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার টুর্নামেন্ট হতে বাংলাদেশ এক পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফিরছে।

অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল। হারার কিছু নেই মাথায় রেখে বাংলাদেশের তহুরা, মনিকা, মারিয়া, আঁখী, নীলা, সাজেদারা নিজেদের নিংড়ে দিয়ে লড়াই করে অস্ট্রেলিয়াকে আন্ডারডগ বানিয়ে দিয়েছেন। ২১ মিনিটে স্ট্রাইকার তহুরা খাতুনের দর্শনীয় গোল বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয় ১-০। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে বল নিয়ে ঢুকে তহুরা অস্ট্রেলিয়ান গোলকিপারকে কাটিয়ে গোল করেন। অস্ট্রেলিয়া যেন কল্পনাও করেনি তারা এত স্বল্প সময়ে গোল হজম করবে। অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের শারীরিক গড়ন এত বেশি শক্ত এবং পোক্ত তা দেখলে নিজের চোখকেও অবিশ্বাস করতে হয়। শরীরের গঠন দুর্দান্ত। সেই তুলনায় বাংলাদেশের কিশোরীদের শরীরী গঠন দুর্বল। কোনোভাবেই তুলনা করা যায় না। অস্ট্রেলিয়ার কিশোরীদের দেখলে মনে হবে তারা যেন সিনিয়র ফুটবলার। ওদের সামনে বাংলার কিশোরীরা অনেক পিছিয়ে। এমন পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া শুধু জয়ের কথাই নয়। ম্যাচ জয়ের সঙ্গে সঙ্গে গোল বন্যা বইয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কারণও আছে। একই গ্রুপে জাপান থাইল্যান্ড ম্যাচে জাপান গোল গড়ে এগিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে। জাপান ৮-০ গোলে থাইল্যান্ডকে হারিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া তখন জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওষ্ঠাগত। প্রাণ যায় যায় অবস্থায় পড়ে অস্ট্রেলিয়া প্রথমার্ধ্বেই পিছিয়ে থাকল ১-০ গোলে।

খেলাটা যখন সময়ের স্রোতে ভেসে শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন ৭৭ মিনিটে ক্লদিয়ার গোলে অস্ট্রেলিয়া সমতা আনে ১-১। তবুও দুর্দান্ত বাংলাদেশ। মাত্র এক মিনিট ব্যবধানে, ৭৮ মিনিটে আবার তহুরার গোল অস্ট্রেলিয়ার জালে (২-১) এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। মানসম্মান বাঁচাতে হবে। অস্ট্রেলিয়া মরিয়া হয়ে ওঠে গোল ফিরিয়ে দেওয়ার। যেখানে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা সেখানে মানসম্মান বাঁচানোর লড়াই অজিদের টেনশন ঢুকিয়ে দিল। বাংলাদেশের ঘরে আক্রমণের স্রোত। মাত্র দুই মিনিট ব্যবধানে, ৮০ মিনিটে জয়েসের গোলে সমতা আনে অস্ট্রেলিয়া ২-২।  বাংলাদেশের হাত থেকে এত বড়ো একটা জয় হাতছাড়া হয়ে যায়।

গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ০-১ গোলে স্বাগতিক থাইল্যান্ড এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৯-০ গোলে জাপানের কাছে হারে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টের গত আসরেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ জিততে জিততেও ৩-২ গোলে হেরেছিল।