বৈশ্বিক ও এশীয় আসরে সাফল্য, সঙ্গে দ্বিতীয় বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ আর্চারি তথা দেশীয় ক্রীড়াঙ্গনের আরো একটি বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছেন রোমান সানা। তবে এখানেই থেমে না থেকে আরো ওপরে উঠতে চান তিনি। গত শুক্রবার টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে বসে ইত্তেফাককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে এযাবত্কালের সাফল্যের রেসিপি, ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বললেন। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন
নেয়ামত উল্লাহ।
প্রথমে অলিম্পিকে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তারপর এশিয়া কাপ আর্চারিতে স্বর্ণপদক জয়। প্রত্যাশার চাপ কি বেড়ে যাচ্ছে ?
এভাবে দেখছি না ব্যাপারটা। আমার মনে হচ্ছে, এতে করে আত্মবিশ্বাসটা বাড়ছে। ফাইনাল স্টেজে বেশি বেশি খেললে অলিম্পিকের খেলাগুলোর জন্য কাজে দেবে। কারণ অলিম্পিকের খেলাগুলোর মার্কিং-টাইমিং ফাইনাল স্টেজের মতোই। অলিম্পিকের আগে আরো কিছু প্রতিযোগিতা আছে। সবগুলো যদি সুস্থ থেকে খেলতে পারি তাহলে অলিম্পিকের আগে প্রস্তুতিটা শতভাগ থাকবে বলে আশা রাখছি।
সেটা হয়ে গেলে পদক জেতার সম্ভাবনা কেমন বাড়বে?
সব আর্চারের স্বপ্ন থাকে দেশকে পদক পাইয়ে দেবার। আমিও দেশকে অলিম্পিক পদক এনে দিতে চাই। এখনকার মতো আত্মবিশ্বাসটা ধরে রাখতে পারলে এটা খুব সম্ভব। এ লক্ষ্যে পরিশ্রম করা বাড়িয়ে দিয়েছি। বাকিটা আল্লাহ পাকের ইচ্ছা।
শেষ কিছু দিনে স্কোরে দারুণ উন্নতি করে যাচ্ছেন। ফিলিপাইনে বাছাইপর্বে ৬৮১ করলেন এখানে (বাংলাদেশ কাপ) ৬৮৫ করলেন। রিও অলিম্পিকে ৭০ মিটারে ৭০০ স্কোর করে অলিম্পিক রেকর্ড গড়েছিলেন কিম উ জিন। সেটাও কি ছোঁয়া সম্ভব?
অভিজ্ঞতা অনেক বড়ো নিয়ামক। তাদের বিশ-পঁচিশ বছরের অভিজ্ঞতার বিপরীতে আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলছি মাত্র দশ বছর। এছাড়াও সেটা আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। টোকিওতে টেস্ট ইভেন্টে খেলে বুঝেছি সে সময়ে বৃষ্টি-ঝড়ো বাতাস থাকবে। এতে করে সবারই স্কোর কমবে। এবার সেখানে আমি ৬৬২ করে বাছাইপর্বে দশম হয়েছিলাম। তো যদি এবার সেটা ৬৭০+ করা যায় তাহলে আশা করছি বাছাইয়ের সেরা আটে ঢুকে যাওয়া যাবে।
এশিয়া কাপের প্রথম পর্বের ফাইনালে স্বর্ণজয়ের খুব কাছে গিয়েও রৌপ্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। এবারের ফাইনালের আগে কি সে দুঃস্মৃতি মনে পড়ছিল?
তেমন কিছুই মনে হয়নি। কারণ খেলায় হার-জিত থাকবেই। ইতিবাচক দিকগুলো নিতে চেষ্টা করি আর নেতিবাচকতা পরিহার করার চেষ্টা করি। হার থেকে শিক্ষা নিতে চেষ্টা করি। এমন চিন্তাই আমাকে জিততে সাহায্য করে।
চলতি বছরটা অসাধারণ যাচ্ছে। এশিয়া কাপের ব্যক্তিগত স্বর্ণ-রৌপ্য জিতলেন, বিশ্বকাপেও ব্রোঞ্জ জিতলেন। দলগত ব্রোঞ্জ-রুপা জিতলেন। সবমিলিয়ে বছরটাকে কিভাবে দেখছেন?
আসলে সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা। ব্যক্তিগত ও দলগত ইভেন্টে সাফল্য পেয়েছি। সবমিলিয়ে বছরটা দারুণ যাচ্ছে।
নিজেকে বিশ্বর্যাংকিংয়ের কোন পর্যায়ে দেখতে চান?
আমার আর্চারি অভিজ্ঞতা দশ বছর হয়ে গেছে। আমার ভাবনা হচ্ছে, আমি নিজেকে বিশ্বের সেরা তিনজন আর্চারের একজন হিসেবে দেখতে চাই। সেজন্য আরো কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন এবং বেশি বেশি খেলায় অংশগ্রহণ। সিটিগ্রুপ আমাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বলেই আমাদের এতো এতো অর্জন সম্ভব হয়েছে। তাদের সমর্থন আরো তিন বছর পেলে এবং কোচ-ফেডারেশনের সঙ্গে মিলে টিমওয়ার্কটা ধরে রাখতে পারলে এ সময়ে বিশ্বকাপেও দলীয় পদক জেতা সম্ভব।
এবার দলীয় ইভেন্টের কথা বলি। পুরুষ দলীয় রিকার্ভে প্রথমবারের মতো স্বর্ণজয়ের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। ফাইনালের শেষ তীরে চীনের প্রয়োজন ছিল দশ স্কোর। তারা সেটা মেরেই স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়। একে কি ভাবে দেখছেন?
সেটা বিশ্বমানের এক লড়াই ছিল। ফাইনালের চাপ উপেক্ষা করে শেষ দানে প্রতিপক্ষের দশ নিয়ে জিতে যাওয়াটা কেউ কল্পনাও করে না, আমরাও করিনি। অভিজ্ঞতার জোরেই চীন সেটা করে দেখাতে পেরেছে। সেই সময়টায় ভাগ্য আমাদের সঙ্গে ছিল না।
দলীয় সাফল্যের রেসিপিটা কি?
আমাদের দলের বন্ধনটা দারুণ। বিশ্ব আর্চারির বড়ো বড়ো সদস্যদের বাহবা পেয়েছি আমরা। এই বন্ধনের জোরেই আমরা খুব দ্রুত উন্নতি করছি, দুই বছরের ব্যবধানে কোথা থেকে কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি। আমি যতদিন আছি দলে কোনো প্রকারের রাজনীতি থাকবে না, দলের খেলোয়াড়দের আগলে রাখতে চাই আমি।