বিশেষ প্রতিনিধি
জাতীয় জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আরো বড়ো পরিসরে নতুন করে স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অত্যাধুনিক নকশায় এসব স্থাপনা নির্মিত হলে শাহবাগ থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত স্থাপনায় নান্দনিক সৌন্দর্য আসবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দলটির শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাত্ প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
নতুন করে এসব স্থাপনা নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই স্থাপনাগুলো হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, আধুনিক সুবিধাসংবলিত ও নান্দনিক সৌন্দর্যের। এরই মধ্য পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। টিএসসির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে টিএসসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তন এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে। সব মিলিয়ে তখন ছাত্র শিক্ষক সংখ্যা ছিল ৪/৫ হাজার। এখন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক সংখ্যা ৪০ হাজারের ওপরে। টিএসসি’র সুযোগ সুবিধা এখন শিক্ষার্থীদের জন্য অপ্রতুল। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য টিএসসিকে আরো বড়ো ও আধুনিক সুযোগ সুবিধাসংবলিত করে দেওয়া হবে। ছাত্র-শিক্ষক, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো, সবাই যাতে আরো বেশি খোলামেলা পরিবেশে কাজ করতে পারে। এখানকারটির চেয়ে কয়েকগুণ বড়ো ও অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধাসংবলিত বড়ো অডিটোরিয়াম, বড়ো ক্যাফেটেরিয়া করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
অত্যাধুনিক ও আরো বড়ো করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ভবন অনেক পুরাতন। সেখানে রোগীর অনেক চাপ। এখানে আধুনিক বিল্ডিং করে দেওয়া হবে, যাতে ৪/৫ হাজার রোগীকে এক সঙ্গে সেবা দেওয়া যায়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় জাদুঘর এবং পাবলিক লাইব্রেরি পুরো এলাকাকে একই বাউন্ডারির মধ্যে নিয়ে আসা হবে। এখানে আরো বড়ো পরিসরে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সেখানকার পুকুরটিকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে এটি মানুষকে প্রশান্তি এনে দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় জাদুঘর ও পাবলিক লাইব্রেরি নির্মিত হলে এর নান্দনিক সৌর্ন্দয মানুষকে আকর্ষণ করবে এবং আরো বেশি মানুষ এখানে আসতে পারবেন এবং আধুনিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ হতে পারবেন।
টিএসসিতে মেট্রোরেলের স্টেশন করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রছাত্রীদের এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে এমন কিছু করবে না সরকার। তিনি বলেন, মেট্রোরেল হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির, কম্পিউটারাইজ, ইলেক্ট্রিক ট্রেন। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে মেট্রোরেল হবে সাউন্ডপ্রুফ। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় যে প্লাটফরম হবে তা অনেক বড়ো করে করা হবে। যাতে এক সঙ্গে অনেক ছাত্র-ছাত্রী এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের রাস্তা পারাপারের সুবিধা ও বইমেলার কথা চিন্তা করে বাংলা একাডেমির সামনে একটি বড়ো আধুনিক আন্ডারপাস করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। রাজধানীকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরো ঢাকাকে মেট্রোরেলের নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। কোথাও আন্ডারগ্রাউন্ড, কোথাও এলিভেটেড করা হবে। ঢাকাবাসীকে সুখবর দিতে চাই চারপাশে এলিভেটেড চার্কুলার রোড করে দেওয়া হবে।