তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে পিএসসি গণবিরোধী

দাবি জাতীয় কমিটির

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে প্রণীত উত্পাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি)-২০১৯-কে গণবিরোধী আখ্যায়িত করেছে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। একই সঙ্গে এটি বাতিলের দাবি জানিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে এক সংলাপ অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমরা অনেক দিন থেকেই দাবি জানিয়ে আসছি। সরকার এই পথে কখনো যায়নি, বরং সক্ষমতা বাড়ানোর বদলে যতটুকু সক্ষমতা আছে তা আরো সংকুচিত করা হয়েছে। জাতীয় সংস্থাকে সুযোগ না দিয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচে বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের সম্পদ অনুসন্ধানে উদ্যোগ না নিয়ে গ্যাস-সংকট জিইয়ে রাখা হয়েছে। তারপর তার অজুহাতে কয়েকগুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গ্যাস-সংকটের অজুহাতে ব্যাপকভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র করা হচ্ছে। এমনকি দেশের প্রাকৃতিক রক্ষাবাঁধ সুন্দরবন ধ্বংস করতেও সরকারের দ্বিধা নেই। করছে দেশবিনাশী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র। অন্যদিকে সরকার দেশের নিজস্ব গ্যাস তেল সম্পদ রপ্তানির বিধান রেখে বিদেশি কোম্পানি ডাকছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো—জাতীয় স্বার্থকে অবহেলা করছে এবং দুর্নীতি করছে। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে দেশের গ্যাস সম্পদ জনগণের স্বার্থে কাজে লাগাতে চাইলে সরকারকে অবশ্যই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা-সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এটি না করে সরকার বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনগণকে নানা ভোগান্তিতে ফেলছে। এর মধ্য দিয়ে সরকার লুটেরা ও আধিপত্যবাদী শক্তির স্বার্থরক্ষা করছে। এর বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থরক্ষায় সকলকে সোচ্চার হতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, মাহা মির্জা, সাইফুল হক, রুহিন হোসেন প্রিন্স, আরিফুজ্জামান তুহিন, জুলফিকার আলী, খান আসাদুজ্জামান মাসুম।