স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দুর্নীতিবাজ যেই হোক, সে জনপ্রতিনিধি হোক আর প্রশাসনের লোক হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যায়, অপরাধ, দুর্নীতির অভিযোগ পেলে প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। দুর্নীতিবাজদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, অভিযান চলছে, চলবে। অপরাধী যে দলেরই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের শনাক্তকরণে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। তালিকা পেলে সেটা যে ধরনেরই প্রতিষ্ঠান হোক, তাদের দমন করা হবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, যারা দুর্নীতি করছে, নিয়ম ভঙ্গ করেছে, অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিছু ঘটানোর চেষ্টা করছে, তাদের নজরদারিতে রেখেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। যাদের বিরুদ্ধে আমরা অনৈতিক কাজের অভিযোগ পাচ্ছি, সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যুবলীগ নেতা জি কে শামীম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জি কে শামীম কীভাবে সরকারি প্রজেক্টের কাজ পেয়েছে সেটি অন্য বিষয়। তার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ ছিল, সে অনুয়ায়ী আমরা তাকে বিচারের মুখোমুখি করছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠান করতে চান। সুশাসন প্রতিষ্ঠান করতে দুর্নীতি রোধ করাটা আমরা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। তাই এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতরা যে দল-মতেরই হোক, কঠোর হাতে তাদের দমন করা হবে। বর্তমানে যে অভিযান শুরু হয়েছে। এটি চলমান থাকবে।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে জঙ্গি তত্পরতা শুরু করা হয়েছিল, আমরা নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়ে তা দমন করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনছি। তিনি বলেন, ইন্টারনেটে সাইবার ক্রাইম হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা লায়ন বেনজীর আহমেদসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে দুর্নীতি, অনিয়ম, জুয়া, মাদক, শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অভিযোগে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও কৃষক লীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।