মিসবাহর ছায়া উপভোগ করছেন ওয়াকার

স্পোর্টস ডেস্ক

ওয়াকার ইউনুসের এক অর্থে ‘ডিমোশন’ই হয়েছে। এর আগে দুই দফায় তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন। অথচ, এখন তিনি কেবলই বোলিং কোচ। আর প্রধান কোচ হিসেবে তার মাথার ওপর আছেন এমন একজন, যিনি ক্যারিয়ারের বড়ো একটা সময় জাতীয় দলে খেলেছেন ওয়াকার ইউনুসের অধীনে।

যদিও, মিসবাহ উল হকের অধীনে কাজ করাটাকে নিজের জন্য উপভোগ্য বলেই মনে করছেন ওয়াকার ইউনুস। তিনি মনে করেন, মিসবাহর দিক-নির্দেশনায় পাকিস্তান ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

৪৭ বছর বয়সি ওয়াকার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বসে বলেন, ‘প্রধান কোচ মাথার ওপর একটা ছায়ার মতো। আপনি যখন একজন প্রধান কোচের অধীনে কাজ করবেন, তিনি আপনাকে কিছু দিক-নির্দেশনা দেবেন। এটা বিরাট একটা সমর্থন, এর চেয়ে বড়ো কিছু আর হতে পারে না।’

ওয়াকার প্রথম ২০১০ সালে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন। সেবার অবশ্য দায়িত্বে ছিলেন মাত্র এক বছর। এরপর ২০১৪ সালে তাকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়। এই দফায় তিনি কাজ করেন আরো দুই বছর। এর বাইরে তিনি আরো দুই দফায় দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব সামলেছেন।

ওয়াকার অবশ্য প্রমোশন-ডিমোশন এই ধারণাতেই বিশ্বাস করেন না। কাজ করতে চান কেবল পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতিতে। বললেন, ‘আমি আসলে পদোন্নতি বা অবনতি এসব ব্যাপারে বিশ্বাস রাখি না। এসব আমার চোখে কেবলই মিথ। আমার মূল কাজ হলো পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতিতে কাজ করা। আর আমি এটাই নিষ্ঠার সাথে করে যেতে চাই।’

সাবেক অধিনায়ক ওয়াকার মনে করেন, মিসবাহ উল হকের সাথে তার রসায়নটা বেশ জমবে। বললেন, ‘আমার ভূমিকাটা দলে খুবই সাধারণ। আমি আগেও প্রধান কোচ ও বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেছি। ফলে, আমাকে কি করতে হবে সেটা আমি জানি। এর সাথে মিসবাহ কি ভাবে সেটাও আমি জানি। কারণ, ও যখন অধিনায়ক ছিল তখনই আমিই ছিলাম কোচ। মিসবাহ ক্রিকেটের ব্যাপারে খুবই একাগ্র, খুবই সিরিয়াস। ও সত্ একজন মানুষ। আমি আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, ততটুকু সমর্থন ওকে করে যাব।’

২০১৬ সালে সর্বশেষ যখন কোচের দায়িত্ব ছাড়েন, তখন বলে দিয়েছিলেন আর কখনোই পিসিবির অধীনে চাকরি করবেন না ওয়াকার। তবে, তিন বছরের মাথাতেই নিজের বলা সেই কথা থেকে সরে আসলেন তিনি। মতটা পালটালো কি করে? ওয়াকারের জবাব, ‘এখন পুরো সেট-আপটাই নতুন। সিস্টেমটা ভিন্ন। এখন নতুন অনেক রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বোর্ডে। ফলে, আমি মনে করি এটা দিন বদলের সময়।’

ওয়াকার-মিসবাহ জুটির প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট হলো দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে করাচিতে শুরু হওয়ার কথা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর লাহোরে ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

নিরাপত্তার ইস্যুতে শ্রীলঙ্কা দল থেকে শীর্ষ ১০ খেলোয়াড় নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর মধ্যে দুই ফরম্যাটের অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা ও দ্বিমুথ করুনারত্নেও রয়েছেন। নেই শীর্ষ ক্রিকেটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসও। সফরকারীদের নেতৃত্বে থাকবেন লাহিরু থিরিমান্নে।