হাসিমুখেই ফিরল তহুরা খাতুনরা

 এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল

স্পোর্টস রিপোর্টার

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলে এশিয়ার সেরা আট দেশের একটি ছিল বাংলাদেশ। সেরাদের মধ্যে লড়াইয়ে বাংলাদেশ শূন্য হাতে ফিরবে, এমন আশঙ্কা ছিল আগেই। তবে বাংলার কিশোরী ফুটবলাররা আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে খুব ভালো পারফরম্যান্স করে দেশে ফিরেছে গতকাল সন্ধ্যায়। সবার মুখে হাসি ছিল। ‘এ’ গ্রুপে থাইল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে এবং জাপানের বিপক্ষে ৯-০ গোলে হেরেছিল। শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে। ঢাকায় ফেরা এই মেয়েরা এশিয়ার অন্য সেরাদের বিপক্ষে লড়াই করে কোনো ম্যাচ না জিতলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। ২-২ গোলে ড্র করে অস্ট্রেলিয়া জীবন বাঁচিয়েছে। যদিও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। তার পরও অস্ট্রেলিয়ার সারা জীবন মনে থাকবে ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটি। অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলার-কোচ-কর্মকর্তাদের মনে থাকবে বাংলার তহুরা খাতুনকে । মনে থাকবে মনিকা, অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা, আনাইমগিনি, নাজমা, সাজেদা, গোলকিপার রিতু চাকমা, নীলাদের তাক লাগানো পারফরম্যান্স।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই-দুবার গোল করে এগিয়ে গিয়েও ম্যাচটা জিততে না পারার আফসোসে পুড়ছে তহুরা, অসাধারণ দুটি গোল করেছে সে। যারা গোল দুটি দেখেছেন, তারা মনে করছেন ছবির মতো গোল ছিল। অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যবান লম্বা লম্বা, শক্তিশালী এবং টেকনিকে, ট্যাকটিসেও যারা বাংলাদেশের তহুরাদের চেয়ে হাজার হাজার মাইল এগিয়ে, সেই দলটাকে একটুর জন্য হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। হাতের মুঠোয় পেয়েও হাত ফসকে ছুটে গেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ জিতলেও কিছু হতো না। তার পরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল দেখিয়ে ম্যাচ জেতা অসাধারণ কৃতিত্বই লেখা হতো। তার পরও দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনদের কাছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটা ইতিহাসে লেখা থাকবে। ভবিষ্যতে যখনই এ দুই দল মুখোমুখি হবে, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে হেলাফেলা করতে পারবে না। নাকউঁচু ভাবও রাখতে পারবে না।

গত শনিবার দুপুরে খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার কোচ রাইয়ে ডাওয়ার বলেছেন, ‘প্রথমেই আমি বাংলাদেশের মেয়েদের অভিনন্দন জানাই। তারা অসাধারণ একটি খেলা উপহার দিয়েছে। জাপানের বিপক্ষে কিংবা থাইল্যান্ডের বিপক্ষে যে বাংলাদেশকে দেখেছি, আমাদের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোন বাংলাদেশকে দেখলাম! আমাদের চেয়ে বাংলাদেশই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে বেশি। আমরা রক্ষণভাগের ভুলে দুটি গোল হজম করেছি। পিছিয়ে গিয়েছিলাম। ভাগ্য ভালো, গোল শোধ করে একটি পয়েন্ট পেয়েছি।’

আফসোস করছেন কোচ ছোটন। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্ভাগ্যজনক হার মেনে নিতে হয়েছিল। জাপানের বিপক্ষে বিপর্যয় ঘটেছিল। খেলোয়াড়েরা বলছে, তারা রিকভারিটা ভালো পায়নি। দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবটুকু ঢেলে লড়াই করার শপথ নিয়ে মাঠে নেমেছিল। এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জাপান ও চীন এবং অস্ট্রেলিয়া ও উত্তর কোরিয়া মুখোমুখি হবে। খেলোয়াড়দের আফসোস, থাইল্যান্ড ম্যাচটা জেতার মতো ছিল। হাতের মুঠো হতে অস্ট্রেলিয়া ফসকে না গেলে ইতিহাস হয়ে যেত।