নারায়ণগঞ্জে ২১ দিনে ১৯ লাশ

নারায়ণগঞ্জ জেলায় যেন মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছে। চলতি মাসের ২১ দিনেই হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা ১৯ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে পাঁচ জনকে হত্যা করা হয়, চার জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন, তিন জন মারা যান বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে। এছাড়া অন্যান্য কারণে মারা গেছেন আরো ৯ জন।

গত ২ সেপ্টেম্বর  রূপগঞ্জে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় রাজু পাটোয়ারী (২৮) নামে ট্রাকের এক হেলপার নিহত হন। গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে সদর উপজেলার গোগনগর এলাকায় একটি সিমেন্টবাহী ট্রাকের চাপায় জামাল হোসেন নামে এক অটোরিকশাচালক নিহত ও একজন যাত্রী আহত হন। ৪ সেপ্টেম্বর  রূপগঞ্জের ভুলতার হাটাবো দক্ষিণপাড়া এলাকায় সানজিদা আক্তার (৮) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় আয়নাল হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৫ সেপ্টেম্বর  রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের এক নম্বর সেক্টরের ভোলানাথপুর এলাকা থেকে ২৫ বছরের এক অজ্ঞাত তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐদিন দুপুরে আড়াইহাজারে নজরুল ইসলাম (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর লাশ উদ্ধার করে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ। নিহতের শরীরে কিছু জখমের চিহ্ন দেখে পুলিশ ধারণা করে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।

৭ সেপ্টেম্বর ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় ট্রাকচাপায় আরাফাত হোসেন (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। ৯ সেপ্টেম্বর আড়াইহাজারে ইভা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর কর্তব্যরত চিকিত্সকরা গৃহবধূকে মৃত ঘোষণা  করেন। ১০ সেপ্টেম্বর আড়াইহাজারে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে জাকির হোসেন (২৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রি ও ১১ সেপ্টেম্বর মেঘনার পানিতে ডুবে সাইমা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। একই দিন রূপগঞ্জে দুটি দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু ঘটে। রূপগঞ্জ উপজেলার ইছাখালী এলাকায় বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে তফিকুল ইসলাম সুমন (৩৫) নামে এক ডকইয়ার্ড শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উপজেলার কাজীপাড়াসংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে জাহাজের পাখায় জড়িয়ে সজীব (২২) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর আড়াইহাজার পৌরসভার নোয়াপাড়া এলাকায় বাথরুমে রাখা পানি ভর্তি বালতিতে পড়ে ছয় মাস বয়সি শিশু আল-আমিনের মৃত্যু হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তুহিন ওরফে চাপাতি তুহিন নামে এক যুবক নিহত হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জে সিআইখোলা এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে একটি ফ্ল্যাটে মা ও দুই কন্যাশিশুকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলো সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা এলাকার বাসিন্দা সুমনের স্ত্রী নাজমিন (২৮), দুই মেয়ে নুসরাত (৮) ও খাদিজা (২)। নিহত নাজমিনের বোনের স্বামী আব্বাস এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। সেদিন বিকালেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্র তোয়াসিম আরাফাতের (১০) লাশ ১৯ সেপ্টেম্বর উদ্ধার করে মণ্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একদল ডুবুরি। এর আগের দিন দুপুর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। দুপুরের দিকে ফয়েজ আহম্মেদ মৃধা (৩০) নামের এক দূরসম্পর্কের মামার সঙ্গে টানবাজার স্কুল ঘাটসংলগ্ন নদীতে গোসল করতে গেলে তোয়াশিম নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ফয়েজ আহম্মেদ মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ।

২০ সেপ্টেম্বর বন্দরে খোকন (৩৫) নামে এক বালু ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আল-আমিন নামক একজনকে আটক করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে। ২১ সেপ্টেম্বর আড়াইহাজারে সোলার লাইট স্থাপন করতে গিয়ে সুমন মিয়া (২৫) নামে এক যুবক বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এ সময় আহত হন আরো দুজন।