বছরের উত্পাদিত দ্রব্য ও সেবার সমষ্টিই হলো ‘জাতীয় আয়’

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক

হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়,চাঁদপুর

                                             

১। মিস ও শিন গবেষণার কাছে তথ্য সংগ্রহের জন্য জাপান থেকে পার্শ্ববর্তী একটি উন্নয়নশীল দেশে আসেন। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, দেশটির জনগণ তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য নানা প্রচেষ্টায় নিয়োজিত। দেশটির অভ্যন্তরীণ বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ১০,০০০ কোটি মার্কিন ডলার। ঐ বছরে দেশটির প্রবাসী নাগরিকদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ৫০০০ কোটি মার্কিন ডলার। দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা ১ কোটি। সরকার দেশটির চাষাবাদে যান্ত্রিক পদ্ধতির প্রয়োগ,প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিল্পের হার বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ক) ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সাক্ষরতার হার কত ছিল ?                                                                                                                                                                                      খ) ‘জাতীয় আয়’ ধারণাটি ব্যাখ্যা কর ।                                                                                                                     গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত দেশটির জনগণের মাথাপিছু আয় নির্ণয়সহ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।                                                                                                                                                                           ঘ) উদ্দীপকে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি’-বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

ক) উত্তর ঃ ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সাক্ষরতার হার ছিল ৫৪.৮ জন।                                                                                                    

খ) উত্তর ঃ কোন একটি নির্দিষ্ট সময়ের একটি দেশের উত্পাদিত দ্রব্য ও সেবাসমূহের মোট মূল্যমানকে ঐ দেশের জাতীয় আয় বলে। উত্পাদিত দ্রব্য ও সেবাসমূহকে বিভিন্ন খাতে ভাগ করে হিসাব করা হয়। অর্থনীতির দৃষ্টিতে জাতীয় আয়ের উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হলো কৃষি ও বনজ,মত্স্য,শিল্প,খনিজ,গ্যাস,বিদ্যুত্ ও পানি, নির্মাণ শিল্প,পাইকারী ওখুচরা বিপনন, হোটেল-রেস্তরা,পরিবহন ও যোগাযোগ,ব্যাংক-বীমা,ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি। এসকল খাতে এক বছরের উত্পাদিত দ্রব্য ও সেবার সমষ্টিই হলো ‘জাতীয় আয়’।

গ) উত্তর ঃ উদ্দীপকে উল্লেখিত দেশটির জনগণের মাথাপিছু আয় নির্ণয় করতে হলে মোট জাতীয় উত্পাদনকে দেশটির মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করতে হবে। একটি দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উত্পাদনের যোগফলকে সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়। এর মাধ্যম্যে একটি দেশের মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করা যায়। যে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় যত বেশি সে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান তত উন্নত এবং অর্থনীতি তত সমৃদ্ধ। উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির ক্ষেত্রে দেখা যায়-                                                                                                                                              মোট জাতীয় আয় = ১০,০০০ + ৫০০০ কোটি মার্কিন ডলার। জনসংখ্যা = ১৫ কোটি। মাথাপিছু আয় =  ১৫০০০কোটি মার্কিন ডলার/১৫ কোটি =১০০০মার্কিন ডলার।

ঘ) উত্তর ঃ উদ্দীপকে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তথা চাষাবাদে যান্ত্রিক পদ্ধতির প্রয়োগ,প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিল্পের হার বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়ার মূল লক্ষ্য ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি’-বক্তব্যটি যথার্থ। বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি নির্ভর। কৃষি,শিল্প, যোগাযোগ প্রভৃতি খাতের উন্নয়নে প্রযুক্তির বিকাশকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা যায়। দেশের কৃষি,শিল্প বা সেবা খাতে উত্পাদন বৃদ্ধির কাজে যারা শ্রম ও মেধা দিয়ে কাজ করেন তারা নিজেদের শ্রমকে শক্তিতে রূপান্তরিত করেন। কৃষি নির্ভর অর্থনীত বিদ্যমান এমন দেশের চাষাবাদেযান্ত্রিক পদ্ধতির প্রয়োগ,প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিল্পের হার বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান অনায়াসে সৃষ্টি হবে। ফলে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করবে। তাই চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা জরুরী। উদ্দীপকে দেখা যায়,উল্লিখিত দেশটির জনগণ তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য নানা প্রচেষ্টায় নিয়োজিত। সরকার দেশটিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের চাষাবাদে যান্ত্রিক পদ্ধতির প্রয়োগ,প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিল্পের হার বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। কেননা,প্রযুক্তির নানাবিধ ব্যবহার ও শিল্পখাতে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যম্যে দেশেল উন্নয়ন ঘটানো।