ঝালকাঠির শেখেরহাট ইউনিয়নের রাজপাশা গ্রামে প্রায় দেড় যুগ আগে গৃহবধূ আনোয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। এছাড়া মামলার দুই আসামিকে খালাস দেয়া হয়। সোমবার ঝালকাঠি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ মো. তোফায়েল হাসান এ রায় দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে ২০০২ সালে আসামিরা রাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাজপাশা গ্রামের মকবুল সিকদারের বসত বাড়িতে প্রবেশ করে। এর দুদিন আগে মকবুলের পার্শ্ববর্তী ঘরে আসামিরা ডাকাতি করতে এলে তাদের মকবুলের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম চিনতে পারে।
এ কারণে আনোয়ারা বেগমকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিরা ঘটনার দিন তার বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়িতে প্রবেশ করে মকবুলের ছেলে লিটন সিকদারকে কুপিয়ে জখম করে ডাকাতরা। এ সময় লিটনের মা আনোয়ারা বেগম এগিয়ে আসলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসান গৃহবধূ আনোয়ারা বেমকে হত্যার পর নিজেই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। কারণ তখন আনোয়ারা বেগমের ছেলে লিটন সিকদার গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই সুযোগে আনোয়ারা বেগমকে ফুপু পরিচয় দিয়ে হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে শেখ হাসান ঐ মামলায় বাদী হয়। এরপর সিআইডি তদন্ত করে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলাটির চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
আরও পড়ুন : সিওলে প্রদর্শিত হলো ‘হাসিনা এ ডটারস টেল’
এরপর আনোয়ারা বেগম হত্যার আসল রহস্য উদঘাটনে সিআইডি পরিদর্শক মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় ২০০৩ সালের ১৪ অক্টোবর এজাহার দায়ের করেন। ১ বছর পর সিআইডি পরিদর্শক আশরাফ আলী তদন্ত শেষে ২১ নভেম্বর ২০০৪ তারিখ আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করেন।
২০০৫ সালের ২ অক্টোবর এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ ১৪ বছরে ১৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, আসামি শেখ হাসানের বিরুদ্ধে এলাকায় হত্যা, ডাকাতিসহ ১৯টি মামলা বিচারাধীন বলে এলাকাবাসী ও আইনজীবী সূত্রে জানায়। তার বিরুদ্ধে এ রায়ে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ইত্তেফাক/কেআই