গমের চাহিদা ৭০ লাখ মেট্রিক টন, উত্পাদন ১১ লাখ

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মশালায় বিজ্ঞানীরা

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

বাংলাদেশে বার্ষিক গমের চাহিদা ৭০ লাখ মেট্রিক টন হলেও উত্পাদন হচ্ছে মাত্র ১১ লাখ টন। অপরদিকে ভুট্টা ফসলেও দেশে রয়েছে ব্যাপক ঘাটতি। তাই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে বাংলাদেশে গম ও ভুট্টার উত্পাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।  গতকাল সোমবার দিনাজপুরে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রথম বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি বিজ্ঞানীরা এসব কথা বলেন।

গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সেমিনার কক্ষে গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় চার দিনব্যাপী এই কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. এছরাইল হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাবেক মহাপরিচালক ড. নরেশ চন্দ্র দেববর্মা এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. আব্দুল ওহাব। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবদুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ দেশের প্রথিতযশা বিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গম উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর গম গবেষণা কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করার ঘোষণা দেন। নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত ৩৪টি উচ্চ ফলনশীল গমের জাত উদ্ভাবন করেছে। এগুলোর মধ্যে ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাত বারিগম-৩৩ উল্লেখযোগ্য। সবশেষ ২০১৯ সালে ডব্লিউএমআরআই-১ নামে একটি তাপসহনশীল জাত গম উদ্ভাবিত হয়েছে।