ভাঙ্গায় প্রকৌশলী লাঞ্ছিত, মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়ার অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারি-প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামীসহ ৩ অফিস সহকারীকে পিটিয়ে আহত ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলা তুলে নিতে আসামিরা বাদীকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

মামলার বাদী উপসহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামী জানান, মামলার আসামি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর রাজনৈতিক সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপু এবং ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা রবিবার অফিস চলাকালীন রুমে প্রবেশ করে আমাকে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে, হুমকি প্রদান করে। আমি এখানে আমার পরিবার রেখে সরকারের দায়িত্ব পালন করি। তারা বর্তমান সরকারি দলের নেতা। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ও নিজেকে সামাল দিয়ে কতক্ষণ দায়িত্ব পালন করতে পারবো বুঝে উঠতে পারছি না। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি এবং তাদের পরামর্শে মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে বলে আমি মনে করি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে অফিসে এসে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর রাজনৈতিক সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপু ও ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা ৫টি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল দাবি করেন। এসময় সমরজিত ঘরামী আইন বহির্ভূত কোন কাজ করতে পারবেন না বলার পরেই  তার ও অফিসের কর্মচারীদের উপর চড়াও হয়। প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামিকে মারতে মারতে অফিস কক্ষের ভেতরে তালা দিয়ে রাখা হয়। সেসময় অফিস সহকারী মো. সেলিমুজ্জামান, মো. সাঈদুল ইসলাম ও বলাই চন্দ্র দাস বাধা দিলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। 

পরে এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা সমরজিত ঘরামীকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করেন। ওই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমরজিত ঘরামী বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা ও এনামুল হক অপুকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি এনামুল হক অপুকে পুলিশ সেসময় গ্রেফতার করতে পারলেও আকরামুজ্জামান রাজা পালিয়ে যান। 

এরপর আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে অভিযুক্ত দুই নেতা বাদীকে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করছেন বলে  অভিযোগ করা হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচ