উত্তরায় উচ্ছেদ অভিযানে স্বস্তিতে পথচারী

নিলয় মামুন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসির) উদ্যোগে ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমে স্বস্তি প্রকাশ করেছে পথচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে দখল হওয়া এসব পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ায়, এখন হাঁটার জন্য মূল সড়ক ব্যবহার না করে ফুটপাত ব্যবহার করছেন পথচারীরা। গতকাল সোমবার উত্তরায় উচ্ছেদ হওয়া এসব সড়কে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। 

উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ থেকে গরীবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউ, রবীন্দ্র সরণিসহ বিভিন্ন সড়কে ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে রেস্টুরেন্ট, ফলের দোকান, জুসের দোকান এমনকি বিভিন্ন দলীয় কার্যালয়ও তোলা হয় ফুটপাতে। ফলে সাধারণ মানুষ ফুটপাত দিয়ে চলাফেরা না করে মূল সড়ক ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠে। ফুটপাত দখলের কারণে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনাও বাড়ে এসব এলাকায়। পথচারীদের জন্য এ ফুটপাত দখল মুক্ত করতে রবিবার অভিযানে নামে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রায় ৪ ঘণ্টা অভিযানে প্রায় ৩০০ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এসময় জরিমানা করা হয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকেও। এমন অভিযানের কারণে স্বস্তি প্রকাশ করেছে পথচারীরা। মাসুদ রানা নামে এক পথচারী জানান, মেয়র যেই অভিযান শুরু করেছে এটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে এই উচ্ছেদকৃত জায়গা যেন আবার দখল না হয়ে যায় সেই জন্যও কাজ করতে হবে। আরেক পথচারী আব্দুল সালাম জানান, এই উচ্ছেদ যেন লোক দেখানো না হয়। এটি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি। উচ্ছেদের কারণে আমরা এখন ফুটপাতে স্বাছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারছি।  

উদ্ধারকৃত ফুটপাত যেন দখল না হয়ে যায় এ জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডে কমিটি করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই কমিটিতে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক শাখার একজন, পুলিশের একজন, স্থানীয় কাউন্সিলর, কল্যাণ সমিতি বা মালিক সমিতির একজন, সিটি করপোরেশনের একজন পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক থাকবেন। যারা এসব তদারকি করবেন। আমরা উচ্ছেদের পরেও এটি তদারকি করার ব্যবস্থা করেছি। ফুটপাতে কোনো ধরনের ব্যবসা করা যাবে না। কোনো কার্যালয়ও থাকবে না।’

এদিকে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে উত্তরার জসীম উদ্দীন অ্যাভিনিউ থেকে দ্বিতীয় দফায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এএসএম মামুন। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এ অভিযান ডিএনসিসির সব এলাকায় চলবে।