রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে এরশাদের ছেলে ও ভাতিজার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে রাহগিব আল মাহি সাদ এরশাদ ও তার ভাতিজা সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহারিয়ার আসিফ এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ উপনির্বাচনে সাদকে সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থী অ্যাড. রেজাউল করিম রাজুকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় পার্টির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এরশাদের ভাতিজা আসিফ ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করছেন। সাদও পিছিয়ে নেই। চাচাতো দুই ভাই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, দোয়া আর ভোট চাইছেন বিনয়ের সঙ্গে।
রংপুর-৩ আসনটি দীর্ঘ ৩৩ বছর এরশাদের দখলে রয়েছে। তাই এ আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জাতীয় পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। সে কারণেই প্রার্থিতা দেওয়া হয়েছে এরশাদ পুত্র সাদকে। কিন্তু এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এরশাদের প্রয়াত ছোটো ভাই মোজাম্মেল হক লালুর পুত্র আসিফ। তিনি ভোটারদের বলছেন, ‘আমি স্থানীয়, আপনাদের সন্তান। সাদ বহিরাগত। তিনি কোনো দিন রংপুরে আসেননি। এমনকি এরশাদও কখনোই তাকে সঙ্গে নিয়ে রংপুরে আসেননি। তিনি জাতীয় পার্টির কেউ নন। ভোট শেষে আবারও বিদেশে চলে যাবেন।’ তবে এ বিষয়ে মহানগর জাপার যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নগর সভাপতি সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা যে ঘোষণা দিয়েছেন তার প্রতি একমত হয়ে তারা সাদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না। তবে এ ব্যাপারে সাদ জানান, সিটি মেয়রের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।
বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পরে মাইক ফেরত দেওয়া হলেও প্রচারণার মেমোরি কার্ড ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি এ ঘটনায় অভিযোগের তীর ছুড়েছেন আওয়ামী লীগের দিকে। এ অভিযোগের ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার জি এম শাহাতাব উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন। রিটা রহমানের পক্ষে জেলা ও নগর বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।