ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির কার্যক্রমের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা

সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটি। কমিটির কার্যক্রমের ওপর এক সপ্তাহের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকার চতুর্থ সহকারী জজ আদালত। একই সঙ্গে ওই কমিটির কার্যক্রমের ওপর কেন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি করায় এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন মামলার বাদী আমানউল্লাহ আমান। শুনানি নিয়ে আদালতের বিচারক এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন মঞ্জুর করেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই দিন আগে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির নেতা আমানউল্লাহ আমান নিম্ন আদালতে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিনই ছাত্রদলের কাউন্সিলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১০ বিবাদীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাড়িতে গত বুধবার রাতে ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই কাউন্সিলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইকবাল হোসেন। লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপে আলোচনার পর ওই ভোটাভুটি হয়। পরে রাতেই ভোটের ফল ঘোষণা করা হয়।

ভোট অনুষ্ঠানের পর রবিবার মামলার বিবাদী মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির ১০ নেতার পক্ষে ওকালতনামা দাখিল করে জবাব দেওয়ার জন্য সময় প্রার্থনা করেন তাদের অন্যতম আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। আদালত সময় মঞ্জুর করে জবাব দাখিলের জন্য এক সপ্তাহ সময় দেন। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার মামলার বাদী পক্ষ আর্জি সংশোধনের আবেদন দেয়। ওই সংশোধিত আবেদনে ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিবাদী করা হয়। পাশাপাশি নতুন কমিটির কাযক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রার্থনা জানানো হয়।

আদালত দুটো আবেদনই মঞ্জুর করেছে বলে জানান বিবাদী পক্ষের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। তিনি বলেন, এই আদেশ ন্যায়সঙ্গত হয়নি। যেহেতু বিবাদীদের জবাব দাখিলের জন্য আদালত সময় দিয়েছে সেহেতু বাদী পক্ষ যে নতুন আবেদন দাখিল করেছে তার কপি আমাদের দেওয়া উচিত ছিল। একইসঙ্গে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে আবেদনের ওপর আদালতের আদেশ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, আমাদের কাছে আদালতের আদেশ আসেনি। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে আমরা নির্বাচিত। তাই আমাদের কার্যক্রম কিভাবে স্থগিত করে আদালত। আদালত যদি এমন কোন নির্দেশনা দিয়ে থাকে তবুও আমরা আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাব।

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের জিএস পদপ্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক বলেন, সরকার দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখতে পারে না। যার কারণে ছাত্রদলে যখন গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচিত হলো তখনই তাকে বানচাল করতে সরকার উঠে পড়ে লেগেছে।