এনআইডি জালিয়াতির মামলায় ফাঁসছেন ইসির বড়ো কর্মকর্তারাও

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের এনআইডি পাইয়ে দেওয়ার পেছনে শুধু ছোটোখাটো কর্মচারীরাই জড়িত ছিলেন না, ইসির একাধিক পদস্থ কর্মকর্তাও এই অপকর্মে সহযোগিতা করেছেন। পুলিশের হাতে গ্রেফতার মোস্তফা ফারুক নামে একজন কর্মী বারবার চাকরিচ্যুত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে একাধিক নাম ব্যবহার করে পুনরায় নির্বাচন কমিশনের চাকরি পেয়েছেন, পুলিশ সেটা তদন্ত করে দেখছে। তদন্তে মোস্তফা ফারুকের নিজের নামেই একাধিক এনআইডির সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। অর্থের বিনিময়ে এরকম জালিয়াতি আরো ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সম্মতি ছাড়া অফিস সহকারী ও অস্থায়ী কর্মচারীর মতো ছোটোখাটো পদে চাকরিরতরা কীভাবে অফিসের মূল্যবান সরঞ্জাম নিজ বাসায় নিয়ে এনআইডি জালিয়াতির কাজ করতে পারেন, পুলিশ সেটাও খতিয়ে দেখছে। এদিকে এনআইডি জালিয়াতির মামলায় রবিবার নির্বাচন কমিশনের আরো তিন কর্মীকে গ্রেফতারের পর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গ্রেফতারের আতঙ্কা বিরাজ করেছে। এ নিয়ে এই মামলায় সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নির্বাচন কমিশনের একাধিক পদস্থ কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বলেন, ‘শনিবার রাতে আমরা এক নারীসহ নির্বাচন কমিশনের চার কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছিলাম। ঘটনার সঙ্গে তিন জনের জড়িত থাকার তথ্য নিশ্চিত হয়ে আমরা তাদের গ্রেফতার করেছি। নারী কর্মচারীর জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হতে না পারায় তাকে গ্রেফতার করিনি।’ গ্রেফতার তিন জন হলেন শাহীন, জাহিদ ও পাভেল বড়ুয়া। এদের মধ্যে শাহীন কোতোয়ালি থানা নির্বাচন কর্মকর্তা, পাভেল ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জাহিদ বন্দর থানা নির্বাচন কর্মকর্তার অধীনে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত আছেন। অব্যাহতি পাওয়া ফাহমিদা নাসরিনও কোতোয়ালি থানা নির্বাচন কর্মকর্তার অধীনে একই পদে আছেন।

গ্রেফতার হওয়া নির্বাচন কমিশনের কর্মী মোস্তফা ফারুকের কাছে দুটি এনআইডি পাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একটি এনআইডিতে তার নাম মোস্তফা ফারুক উল্লেখ থাকলেও অপরটিতে মো. মোস্তফা দেখানো হয়েছে। তবে দুটি এনআইডিতেই তার নাম-ঠিকানাসহ অন্যান্য তথ্য প্রায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘প্রায় একই নামে ও একই ছবিতে মোস্তফার দুটি এনআইডি আমরা পেয়েছি। সে নিজেই দুটি আলাদা নামে তার দুটি এনআইডি তৈরি করেছে। দুইবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং দুটি এনআইডি গ্রহণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মোস্তফা বর্তমানে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।’

 

 

০