সরকারি হাসপাতালের ২০০ গজের মধ্যে কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিক না থাকার সরকারি আদেশ লঙ্ঘন করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের ১০০ গজের মধ্যে গড়ে উঠেছে একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক, প্যাথলজি ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনেক ক্লিনিকের বিরুদ্ধে চিকিত্সার নামে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। স্বনামধন্য এমবিবিএস ডাক্তারদের সাইনবোর্ড লাগানো চেম্বারে অদক্ষ হাতুড়ে ডাক্তারদের দিয়ে চিকিত্সার নামে অপচিকিত্সা করা হচ্ছে। রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। রোগীরা দালালদের হাতে বলতে গেলে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, দালালরা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ইমার্জেন্সি বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে নিয়ে যায় এবং সেসব ক্লিনিকে চিকিত্সা নিতে তাদের একরকম বাধ্য করে। তাদের পাল্লায় পড়ে সাধারণ প্যাথলজি টেস্টগুলোও স্থানীয় প্যাথলজি ল্যাবগুলোতে করতে হয় রোগীদের। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ফুঁসলিয়ে দালালরা অনেক সময় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং চিকিত্সা নিতে বাধ্য করে। রোগীদের প্যাথলজি টেস্টগুলোও ঢাকার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করিয়ে থাকে তারা। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দালালরা টঙ্গী ও ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন পেয়ে থাকে। সেই সঙ্গে রোগীদের কাছ থেকেও ‘বকশিশ’ আদায় করে থাকে তারা। মাসখানেক আগে এক রোগীকে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালে জোর করে নিয়ে যায় এক দালাল। বিল হয় ১ লাখ টাকার মতো। এত বেশি বিল করায় রোগীর স্বজনরা টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে এসে রিজেন্ট হাসপাতালের দালাল আক্কাসকে গণধোলাই দিয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় সোপর্দ করে। ঐ রাতেই দালালরা প্রভাব খাটিয়ে থানা থেকে আক্কাসকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
বেশ কয়েক জন ভুক্তভোগী ও আশপাশের দোকানিরা জানান, টঙ্গীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি ক্লিনিক ও প্যাথলজি সেন্টার। অনেকগুলোর বৈধ কাগজপত্রও নেই। ক্লিনিকে অদক্ষ ডাক্তারতো আছেই সেই সঙ্গে অনেক প্যাথলজি ল্যাবে অশিক্ষিত কম্পিউটার অপারেটরদের দিয়েই আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, রক্ত, মলমূত্র পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়ে থাকে। কোনো রোগী যদি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিত্সার জন্য গিয়ে কোনো ভালো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টও দেখান, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই ঐ রিপোর্ট গ্রহণ করা হয় না। ঢাকার বিভিন্ন দালালরা বলে নতুন করে আমাদের হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে।
জানা গেছে, রোগীদের সঙ্গে দালালদের অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার পরও দালালদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কমর উদ্দিন বলেন, ‘আমি যোগদানের পর দালালদের অত্যাচার কিছুটা কমে গেছে। বাকি যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’