তাড়াশে ঠিকানাহীন বৃদ্ধার দায়িত্ব নিলেন সুইপার ছোনিয়া

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মহিষলুটি বাজার এলাকায় গত ১০ সেপ্টেম্বর দিগবিদিক হাটাহাটি করছিলেন এক বৃদ্ধা মাতা। বয়স নেহাত ৬৫ বছরের কম নয়। একপর্যায়ে স্থানীয় ও বহিরাগত বেশকিছু সংখ্যক মানুষ ওই বৃদ্ধাকে দেখতে ভিড় জমায়। তারা সবাই দেখে আবার চলেও যায়। অবশেষে বৃদ্ধার ঠাই হয় সুইপার ছোনিয়ার ঘরে।

মহিষলুটি বাজারের নৈশ প্রহরী আক্কাছ আলী জানান, রাত আটটার দিকে ওই বৃদ্ধাকে কে বা কারা বাজার এলাকায় রেখে যায়। বয়সের ভারে তিনি এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছিলেন। কখনও বাজারের পাশের হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ওপরও উঠে পড়ছিলেন।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় রাস্তায় মিলল ১০ বস্তা ছেঁড়া টাকা

সুইপার ছোনিয়া বলেন, মহিষলুটি বাজারের পাশেই পশু জবাই করার একটি সরকারি পরিত্যক্ত আরচালার মধ্যে তিনি স্বামী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন।  রাতে বাজারে লোকজনের জমায়েত দিখে তিনিও এগিয়ে যান। সবাই যখন বৃদ্ধাকে রেখে চলে যান। তখন স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে বৃদ্ধাকে দেকভালের দায়িত্ব নেই।

ছোনিয়া আরও বলেন, বৃদ্ধাকে তিনি নিজের মায়ের মতো করে আদর-যত্নে রেখেছেন। নিয়ম মতো খাওয়ানো, সময় মতো প্রেসাব-পায়খানা পরিস্কার করতে হয় তাকে। তবে তিনি কাজে গেলে তার তিন মেয়ে জুই, তারা ও সাথী বৃদ্ধার দেখাশোনা করে থাকেন। যতদিন না বৃদ্ধার কোন সন্ধান হয়, ততদিন তার কাছেই রেখে দেবেন।

এদিকে সরেজমিনে আজ মঙ্গলবার সকালে দেখা যায়, সুইপার ছোনিয়ার ঘরে শুয়ে আছেন বৃদ্ধা মাতা। আর পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন ছোনিয়া। একটু জোড়ে আওয়াজ দিয়ে ডাকলে শুধুই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। কোন কথা বলতে পারেন না।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন বলেন, মঙ্গলবার তিনি নিজেও স্ইুপার ছোনিয়ার ঘরে বৃদ্ধাকে দেখে এসেছেন। তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছেন। বৃদ্ধা বাক প্রতিবন্ধী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পুনর্বাসনের যথাযথ চেষ্টা করবেন।

ইত্তেফাক/এমআরএম