ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টুইটার, ইমো, ইউটিউব, হোয়াটস অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম নামগুলোর সঙ্গে কমবেশি সবাই আমরা পরিচিত। আমরা তরুণ সমাজ তো লাগামহীন ঘোড়ার মত ছুটে চলেছি ভার্চুয়াল এই জগতের পিছনে। সবাই বলে এগুলো বিজ্ঞানের আশীর্বাদ কিন্তু সেই আশীর্বাদ যে অভিশাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে সেই ভাবনায় ডুব দিতে সবাই নারাজ। এখন সবাই ফেসবুকে রাতজাগা পাখি হতে চাই কিন্তু কেউ ভোরবেলা পাখির ডাক শুনতে চাই না। এখনকার বাবা-মা সন্তানের পড়ালেখার খোঁজ নিতে ভুলে যায় কিন্তু ইনবক্স চেক করতে ভোলে না। আমরা এখন গল্প, উপন্যাস, কবিতা এবং মনীষীদের জীবনী পড়ার পরিবর্তে গ্রুপ মেসেজিং করতে বেশি পছন্দ করি। এখনকার প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুনতে চায় না বরং গোপাল ভাঁড়, টম এন্ড জেরি আর স্টার জলসা, জি বাংলা দেখে বেশি আনন্দ পায়। পারস্পরিক স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধের জায়গায় ভাটা পড়ে চলছে। আত্মহত্যা, মাদকাসক্তি, ধর্ষণ, ইভটিজিং,পারিবারিক কলহসহ নানান সামাজিক অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণ সমাজ বিভিন্ন অপসংস্কৃতিতে জড়িয়ে যাচ্ছে। অনেকে বিভিন্ন অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে এবং দিন দিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে।
তাহলে এই অভিশাপ থেকে বের হতে আমাদের কি করতে হবে? ১. আমাদের বেশি বেশি বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ২. বিতর্ক, বক্তৃতা, কবিতা, নাচ, গানসহ বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে হবে। ৩. কয়েক ইঞ্চি স্ক্রিনে নয় মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করতে হবে। ৪. ছুটির দিনে কাছের মানুষগুলোকে সময় দিতে হবে, তাদের নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে। ৫. বিকৃত নয় প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হবে, দেশটাকে ভালোবাসতে হবে। ৬. বাবা-মা, গুরুজনদের কথা শুনতে হবে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাখতে হবে। ৭. সব মিলিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে। কবিগুরু বলেছিলেন, ‘মা, যদি হও রাজি, বড় হলে আমি হব খেয়াঘাটের মাঝি’। এখন আর কেউ খেয়াঘাটের মাঝি হতে চাই না, সবাই এখন ফেইসবুক সেলিব্রেটি হতে চাই। ভুলে যেন না যাই পাঁচ-ছয় ইঞ্চি স্ক্রিনে চোখ আটকে থাকলে আকাশ দেখব কি করে!
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।