বাংলা রচনা
কঙ্কন সরকার, তত্ত্বাবধায়ক
শিশু বান্ধব বিদ্যা নিকেতন, গাইবান্ধা
একজন বীরশ্রেষ্ঠ
সূচনা : “উদয়ের পথে শুনি কার বাণী
ভয় নাই ওরে ভয় নাই
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান,
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই”।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য অমর হয়ে আছেন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল। বীরত্বের বিচারে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত এই শহিদ আমাদের হূদয়ে চির জাগরুক।
জন্ম, জন্মস্থান ও পরিবেশ : ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান থানার হাজীপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন মোস্তফা কামাল। তাঁর বাবার নাম হাবিবুর রহমান।
শৈশবকাল, শিক্ষা ও কর্মজীবন: আত্ম-মনোবলে দৃঢ় আস্থা ছোটবেলা থেকেই মোস্তফা কামালের চরিত্রে ফুটে ওঠে। প্রাতিষ্ঠানিক বাধাধরা লেখাপড়ায় মন টিকত না। দুরন্তপনা মোস্তফা কামাল ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পাঠ শেষ করেন। পিতার কর্মস্থল কুমিল্লা সেনানিবাসে সৈনিকদের সুশৃঙ্খল জীবনের সাথে পরিচিত হন। অতঃপর ১৯৬৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ২০ বছর বয়সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন তিনি। এরপর সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শেষ করে ১৯৬৮ সালে ৪র্থ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে নিয়োগ লাভ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে মোস্তফা কামাল : স্বপ্নের স্বাধীনতার জন্য বাঙালির আন্দোলন ১৯৭১ সালে তীব্র রূপ নেয়। শাসক চক্রের চক্রান্তের একপর্যায়ে ২৫ মার্চ কাল রাতে পাক বাহিনী বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য বাঙালি শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ। মোস্তফা কামাল দেশের মুক্তির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। তাঁকে ২নং প্লাটুনের সৈনিক হিসেবে গঙ্গাসাগরের উত্তরে দরুইন গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পাঠানো হয়। এপ্রিল/৭১ এ যুদ্ধরত অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দখল প্রতিরোধ যুদ্ধে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে হানাদার বাহিনীর গোলা বর্ষণে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে একাই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকলেন। হঠাত্ একটা গোলার আঘাতে তাঁর শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়। তাঁর নিজের আত্মদানের বিনিময়ে বেঁচে যায় সাথী মুক্তি সেনাদের মহামূল্যবান জীবন। তারিখটি ছিল ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ সাল।
মোস্তফা কামালের কৃতিত্ব :
দেশ মাতৃকার প্রতি অসীম ভালোবাসার দরুন মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তান বাহিনী ত্যাগ করেন তিনি। ২৭ মার্চ থেকে শত্রুর বিরুদ্ধে তিনি লড়াই শুরু করেন। অর্থাত্ তাঁর প্রকাশ ঘটান বিদ্রোহের মাধ্যমে। শত্রুর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে সাথীদের বাঁচাতে একাই লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন। এক পর্যায়ে নিজের আত্মদানে বাঁচিয়ে দেন কোম্পানিকে। এই কৃতিত্ব গর্বের,গভীর দেশ প্রেমের।
উপসংহার : তাঁর মনোবল,সাহস,কৌশল অন্যদের উজ্জীবিত করে। তাঁর মৃত্যু পথ দেখায়। তিনি আমাদের গর্ব। তিনি নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার জন্য।