বাংলায় ভালো নম্বর পেতে হলে প্রতিবেদনে গুরুত্ব দেওয়া অত্যাবশ্যক

রিজিয়া পারভীন, সহকারী, শিক্ষক কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

গাজীপুর

 

গতকালের পর

 

প্রতিবেদনের প্রকারভেদ

প্রতিবেদন নানান প্রকারের হয়ে থাকে। বিষয়ের বৈচিত্রানুযায়ী প্রতিবেদনেরও  বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন প্রকার প্রতিবেদনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: রীতিসিদ্ধ বা ফর্মাল প্রতিবেদন , রীতিবিরুদ্ধ বা ইনফর্মাল প্রতিবেদন , নিয়মিত প্রতিবেদন,সাময়িক প্রতিবেদন ,বিশেষ প্রতিবেদন,নির্বাহী প্রতিবেদন , প্রার্থিত প্রতিবেদন,অপ্রার্থিত প্রতিবেদন , কোম্পানি প্রতিবেদন ইত্যাদি । এছাড়াও আছে সংগঠনের প্রতিবেদন , সরকারি প্রতিবেদন,সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ইত্যাদি।

প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয়তা

শিক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, ব্যবসা - বাণিজ্য , আইন আদালত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রতিবেদনের বিশেষ গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আগে সাধারণত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত বিবরণীকেই প্রতিবেদন বলে অবহিত করা হয়েছে বা হতো। কিন্তু বর্তমান কালে সমাজ জীবনের বিচিত্র জটিলতার প্রেক্ষিতে নানা জাতের প্রতিবেদনের গুরুত্ব বেড়েছে ।

এর উপযোগিতা মানুষের দৈনিক জীবনেও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদন থেকে আলোচিত বিষয় সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য অবগত হওয়া যায়। প্রতিবেদনের মাধ্যমে কোন বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ, সংগঠন , নির্দেশনা ,নিয়ন্ত্রণ, ফলাফল নিরূপণ, সমন্বয় সাধন ইত্যাদি কাজে সহায়তা পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশ

প্রতিবেদনের তিনটি অংশ হল :

১। প্রারম্ভিক অংশ

২। প্রধান অংশ এবং

৩। পরিশিষ্ট।

১। প্রতিবেদনের প্রারম্ভিক অংশ:

প্রতিবেদনের প্রারম্ভিক অংশে থাকে প্রতিবেদনের মূল শিরোনাম । প্রাপকের নাম ঠিকানা , সূত্র বিষয়ের সংক্ষিপ্ত সার নির্দেশক কথা।

২। প্রতিবেদনের প্রধান অংশ:

প্রতিবেদনের প্রধান অংশে থাকে বিষয় সম্পর্কে ভূমিকা,মূল প্রতিবেদন উপসংহার ও সুপারিশ।

৩। প্রতিবেদনের পরিশিষ্ট অংশ:

প্রতিবেদনের পরিশিষ্টে থাকে তথ্য নির্দেশ,গ্রন্থ বিবরণী,কমিটির তালিকা ও আনুসঙ্গিক বিষয়াদি। প্রতিবেদন রচনার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত থাকলে উত্তম প্রতিবেদন প্রণয়ন করা সম্ভব। এসব পদ্ধতির মধ্যে আছে প্রতিবেদনের আকার,শ্রেণি,বৈশিষ্ট্য,রীতিনীতি ও বিন্যাস।

প্রতিবেদনের আকার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। বিষয়ের গুরুত্ব ও পরিধি অনুসারে তা ছোট হতে পারে ,বড়ও হতে পারে । ছোট আকারের প্রতিবেদনে শিরোনাম, বিষয়বস্তু সুপারিশ ও উপসংহার থাকে। বড় প্রতিবেদন পুস্তকাকারে হতে পারে এবং তাতে বিভিন্ন প্রকারের সারণি ,চিত্র, নকশা, ছক, পরিশিষ্ট, তথ্যনির্দেশ ইত্যাদি সহ বর্ণনা ও ব্যাখ্যা সংযুক্ত করা হয়।

প্রতিবেদনে দশ নম্বর। একটু সতর্কভাবে লেখলে এতে সাত  আট পাওয়া ব্যাপার না। আবার ভুল হলে শূন্য পাওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়। কাজেই বাংলায় ভালো নম্বর পেতে হলে প্রতিবেদনে গুরুত্ব দেওয়া অত্যাবশ্যক।

প্রতিবেদনের নির্দিষ্ট শ্রেণি বিভাগ নেই। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রতিবেদন নানা রকম হতে পারে।   পরের অংশ আগামীকাল