ডাকটিকিট

ডাকটিকিটে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

আজ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলা ভাষায় প্রথম ভাষণ প্রদানের ৪৫ বছর পূর্তি হলো। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য দেশের মর্যাদা লাভ করে। এর মাত্র আট দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু বাংলায় ভাষণ দেন। জাতিসংঘ এটিই ছিল বাংলায় প্রথম ভাষণ। এতে করে বাংলাভাষা বিশ্ব দরবাবে সম্মানের আসন পায়। জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি ছিল বিশ্বের অধিকার বঞ্চিত নির্যাতিত মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বশান্তি, ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার একটি সাহসী পদক্ষেপ। 

বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে যেসব দেশ ও জাতি সমর্থন জানিয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের সংগ্রাম ছিল ন্যায় ও শান্তির জন্য সার্বজনীন সংগ্রামের প্রতীকস্বরূপ এবং বাংলাদেশ শুরু থেকে বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের পাশে থাকবে। তিনি আরো বলেন, অতীতের সকল সংঘাত ও বিরোধের বদলে বাংলাদেশ তিনটি দেশের জনগণের মধ্যে কল্যাণকর সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর এবং নিকট প্রতিবেশী দেশ ভারত, বার্মা ও নেপালের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া অতীত থেকে মুখ ফিরিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা প্রদর্শন করে এই উপমহাদেশে শান্তি ও সহযোগিতার নতুন ইতিহাস রচনার কাজে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছি। বাংলাদেশ সকল প্রতিবেশী দেশের সাথে সত্ প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

জাতিসংঘ বাংলাদেশের বুক থেকে যুদ্ধের ক্ষত দূর করা, যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির উত্পাদন ক্ষমতার পুনরুজ্জীবন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে সহযোগিতা প্রদান করে। ভাষণের শেষের দিকে বঙ্গবন্ধু বলেন, আত্মনির্ভরশীলতাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের ন্যায় উদীয়মান দেশসমূহের অবশ্যই নিজেদের কার্যক্ষমতার প্রতি আস্থা রাখতে হবে এবং শুধুমাত্র জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে গড়ে তোলা যাবে উন্নততর ভবিষ্যত্।

জাতিসংঘ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ভাষণটি ছিল সাম্রাজ্যবাদ-ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ উচ্চারণ ও বিশ্বের অধিকার বঞ্চিত মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা হ্রাস, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি হস্তক্ষেপ না করা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক নির্দেশনা ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাষণে। সম্প্রতি জাতিসংঘ বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ভাষণের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বরকে ‘বাংলাদেশ অভিবাসী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলা ভাষায় প্রদত্ত ভাষণকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বাংলাদেশ ডাক বিভাগ একটি স্মারক ডাকটিকিট ও সুভেনির শিট প্রকাশ করে। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়, যার নকশাকার আনোয়ার হোসেন। ডাকটিকিটে জাতিসংঘে ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ভাষণের ছবি স্থান পায়। এরপর ২০১৮ সালের ২৯ মে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের গৌরবদীপ্ত ৩০ বছর উপলক্ষে ৪০ টাকা মূল্যমানের একটি সুভেনির শিট প্রকাশিত হয়, যার ডিজাইনার সনজীব কান্তি দাস। সুভেনির শিটে রয়েছে ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ভাষণের আলোকচিত্র।