ধর্ষণের পর হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ

বাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগসাজশে টঙ্গীতে গার্মেন্টকর্মী রিমা ওরফে লিমার (২০) হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে পুলিশের এসআই এর বিরুদ্ধে। বাগেরহাটের শরণখোলার বানিয়াখালী গ্রামের মেয়ে লিমা গত ৯ আগস্ট মারা যান। লিমার পিতা ইউসুফ আলী হাওলাদার মঙ্গলবার দুপুরে শরণখোলা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন।

তার অভিযোগ, দক্ষিণ খায়েরটেক মহল্লার বাড়ির মালিক প্রভাবশালী খোরশেদ আলমকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। পুলিশকে ম্যানেজ করে পরে সেই ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

লিখিত বক্তব্যে ইউসুফ আলী বলেন, খোরশেদ আলমের বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতো লিমা। এ সময় বাড়ির মালিকের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে লিমার ওপর। তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। এসব কথা আগেই থেকেই মা-বাবাকে জানিয়েছে লিমা। ঘটনার দিন ৯ আগস্ট রাতে খোরশেদ আলম লোকজন নিয়ে তার মেয়েকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরেরদিন সকালে তুরাগ থানার দারোগা নির্মল বাবুকে ম্যানেজ করে আত্মহত্যার অপপ্রচার চালায়। 

আরও পড়ুন : যুবলীগের সম্রাটকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পনের নির্দেশ

তিনি বলেন, সে অনুযায়ী পুলিশ লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে ময়না তদন্তে পাঠায় এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে। ১১ আগস্ট লাশ শরণখোলায় গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়। অপমৃত্যু মামলায় মেয়ের মা মাসুমা বেগমের স্বাক্ষর পুলিশের ওই দারোগা নিজে দিয়ে মামলাটি রেকর্ড করে। পরবর্তীতে কয়েকবার তুরাগ থানায় র্ধষণের পর হত্যার অভিযোগ নিয়ে গেলে দারোগা নির্মল মেয়ের মা-বাবাকে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে থানা থেকে তাড়িয়ে দেয়। 

লিমার মা মাসুমা বেগম জানান, তার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে এরকম কোনো কারণ ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে সে সন্ধ্যা ৬টার দিকে গলাায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু ঘটনার দিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেয়ের সাথে মোবাইলে কয়েকবার কথা হয় তার। পরেরদিন সকালে থানা থেকে মৃত্যুর খবর জাননো হয়। ওইদিন দুপুর ২টায় তুরাগ থানায় গেলে দারোগা নির্মল তার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। পরে জিডির কপিতে যে স্বাক্ষর সেটা তার না বলে দাবি করেন মাসুমা বেগম। তার মেয়েকে বাড়ির মালিক ধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তুরাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নির্মল চন্দ্র দেব মুঠোফোনে বলেন, মেয়েটিকে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। রিপোর্ট আসতে দুই-তিন মাস সময় লাগে। রিপোর্টে যা আসবে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেয়ের পরিবারের কারো সাথেই দুর্ব্যবহার করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। 

ইত্তেফাক/কেআই